আল্লামা ইসহাক ফরিদী রহ. শুধু একজন উস্তাদ নন, তিনি ছিলেন একটি চলমান প্রতিষ্ঠান। তিনি ছিলেন জ্ঞানের আলো হাতে পথচলা এক অভিভাবক, একজন সফল রাজনীতিবিদ, সমাজ সংস্কারক ও উম্মাহর দরদী মুসলিহ। তাঁর ক্লাসে বসলে মনে হতো,এ যেন শুধু কিতাবের সবক নয়, জীবনের সবক শিখছি।
তিনি আমাদেরকে কিতাবের পাশাপাশি মানুষ হতে শিখাতেন। পরিবার কিভাবে গড়তে হয়, সমাজে কিভাবে চলতে হয়, রাষ্ট্র ও বিশ্ব পরিস্থিতি সম্পর্কে একজন মুমিনের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন হওয়া উচিত,এসব বিষয় তিনি হৃদয়ে গেঁথে দিতেন।তাঁর প্রতিটি কথা ছিল অভিজ্ঞতার নির্যাস, প্রজ্ঞার আলো এবং উম্মাহর জন্য গভীর দরদে ভরা।
দেখতে দেখতে দু’দশক পার হয়ে গেছে। সময়ের ব্যবধানে কত কিছু বদলে গেছে, কত মুখ হারিয়ে গেছে স্মৃতির আড়ালে। কিন্তু প্রিয় উস্তাদ আল্লামা ইসহাক ফরিদী রহ.-এর সেই দরদভরা কথাগুলো আজও হৃদয়ের গভীরে জীবন্ত হয়ে আছে। তাঁর ক্লাসের প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি নসিহত আজও পথ চলার প্রেরণা হয়ে আছে।
তিনি আমাদেরকে শুধু কিতাবের জ্ঞান দেননি; শিখিয়েছেন কিভাবে একজন আদর্শ মানুষ, দায়িত্বশীল অভিভাবক ও সচেতন উম্মাহর সদস্য হতে হয়। সময় পেরিয়েছে, কিন্তু তাঁর শিক্ষা ও ভালোবাসার প্রভাব একটুও কমেনি। বরং যত দিন যাচ্ছে, ততই উপলব্ধি করছি,কত বড় মাপের মানুষ ও শিক্ষক আমাদের মাঝে ছিলেন।
আজও তাঁর ক্লাসের সেই দরদমাখা কথাগুলো কানে ভাসে। তাঁর হাসি, তাঁর নসিহত, তাঁর দূরদর্শী চিন্তা,সবকিছুই হৃদয়কে নাড়া দেয়। এমন মহান ব্যক্তিত্বের ছাত্র হতে পেরে নিজেকে সত্যিই সৌভাগ্যবান মনে করি।
আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রিয় উস্তাদকে জান্নাতুল ফিরদাউসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন এবং তাঁর রেখে যাওয়া ইলম ও খেদমতকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে কবুল করুন।
কিছু মানুষ দুনিয়া থেকে চলে যান, কিন্তু তাঁদের শিক্ষা, আদর্শ ও স্মৃতি কখনো মুছে যায় না। আল্লামা ইসহাক ফরিদী রহ. তেমনই এক আলোকিত নাম, যিনি তাঁর ছাত্রদের হৃদয়ে আজীবন বেঁচে থাকবেন।
লেখক : কুমিল্লার একটি মাদরাসার মুহতামিম ও খতীব
