নিজস্ব প্রতিবেদক :: পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মানুষের স্বাভাবিক বাড়ি ফেরার আনন্দ যেনো ম্লান করে দিয়েছে বৃষ্টিবর্ষণ। তবু আনন্দ যাবে বাড়ি। প্রতিটি মানুষ ঘরে ফেরার আনন্দকে ভুলতে চান না। নিজের কষ্টের টাকায় করা বাচ্চাদের জন্য মার্কেটও সাথে নিয়ে যেতে চান। তাই ভারী বোঝাসহই অনেকের সঙ্গে দেখা মিলে রাজধানীর কমলাপুর কিংবা সায়েদাবাদ, ধোলাইপাড়, মহাখালী কিংবা গুলিস্তান। পবিত্র ঈদুল আজহা বৃহস্পতিবার (২৮ মে) উদযাপিত হবে। বৃষ্টিবর্ষণের এ দিনে কেমন হবে কুরবানি তা নিয়ে রীতিমতো আকাশের তাকিয়ে আছে মোমিন।
ঈদের ঠিক আগের দিন বুধবার (২৭ মে) সাত সকালে রাজধানীতে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। ভোর থেকে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ না থাকলেও হঠাৎ নামা বৃষ্টিতে চরম বিপাকে পড়েন তারা। বৃষ্টিতে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ঘরমুখো মানুষদের। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী ছাড়ার সময় বৃষ্টিতে নাজেহাল অবস্থা। অনেকেই পিকআপে করে বৃষ্টিতে ভিজেই রাজধানী ছাড়ছেন।
বৃষ্টি মাথায় নিয়েই আবার শুরু হয়েছে দুই নৌরুটে ফেরি চলাচল। ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির কারণে বন্ধ থাকার এক ঘণ্টা পর পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এবং আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল শুরু হয়। বুধবার (২৭ মে) সকাল ৭টা ১০ মিনিটে বৈরী আবহাওয়া শুরু হলে নিরাপত্তার স্বার্থে এই দুই নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ। তখন বিআইডব্লিউটিসির জিএম সালাম মিয়া জানিয়েছিলেন, ঝড় ও বৃষ্টির কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল আবার চালু করা হয়।

এদিকে ঈদকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়লেও ভারী বৃষ্টির কারণে সড়ক ও রেলপথে দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়েছে। বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট ও রেলস্টেশনে যাত্রীদের ছাতা মাথায় কিংবা ভিজে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। কোথাও যানজট, কোথাও ধীরগতির কারণে যাত্রাপথও দীর্ঘ হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ ও শিশুদের নিয়ে যাত্রা করা পরিবারগুলো। অনেক যাত্রী জানিয়েছেন, ঈদের আনন্দের চেয়ে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছানোই এখন তাদের বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গরু ব্যবসায়ীরা এ প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করে বলেছেন, খারাপ আবহাওয়ার কারণে ক্রেতাদের উপস্থিতি কমে গেছে। ফলে এখনো বিপুল সংখ্যক পশু এখনো বিক্রি হয়নি। শেষ মুহূর্তে ভালো বিক্রির আশা নিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে পশু নিয়ে এলেও বৃষ্টির কারণে কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা পাচ্ছেন না অনেক বিক্রেতা। বিভিন্ন হাটে পশু রাখার জায়গা কাদায় পরিণত হওয়ায় পশু সামলাতেও বাড়তি ভোগান্তি হচ্ছে। এতে খরচ বাড়লেও বিক্রি কমে যাওয়ায় লোকসানের শঙ্কায় পড়েছেন তারা।
মঙ্গলবার (২৬ মে) রাতভর যানজট ছিল। গাজীপুরের দেড় হাজার পোশাক কারখানাসহ প্রায় আড়াইহাজার কারখানায় একযোগে ঈদের ছুটি ঘোষণা করা হয়। এতে দুপুরের পর থেকে ঘরমুখো লাখো মানুষ একসঙ্গে স্টেশনগুলোতে ভিড় করে। মানুষের সঙ্গে মহাসড়কে বাড়ে যানবাহনের চাপ। ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ভোগড়া বাইপাস থেকে চন্দ্রা হয়ে কালিয়াকৈর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার এলাকায় যানজট তৈরি হয়। ঢাকা থেকে রওয়ানা হয়ে চন্দ্রা পার হতে ৬-৭ ঘণ্টা লেগে যায়। বৃষ্টিতে দুর্ভোগ বাড়ে বহুগুণ। অনেক যাত্রীকেই দেখা যায় কাঙ্ক্ষিত গাড়ি না পেয়ে ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাক ও পিকআপে করে গন্তব্যে যেতে।
এদিকে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বুধবার সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসময় ঢাকার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে।িএ
এদিকে বৃষ্টিবর্ষণের কারণে যানজটে নাকাল ঘরেফেরা মানুষ। পুলিশ, চালক ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুই ঘণ্টার রাস্তা পার হতে সময় লাগছে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা।
এছাড়াও আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, বুধবার রাজশাহী, খুলনা, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একইসঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। তবে সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

এদিকে ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, যশোর, কুষ্টিয়া, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া দেশের অন্যত্র পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
