ধর্ম ডেস্ক: কোরবানি ইসলামের একটি অন্যতম পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ ইবাদত । পবিত্র কুরআন, সুন্নাহ এবং সাহাবা, তাবেয়ীন ও ফুকাহায়ে কেরামের বক্তব্যের মাধ্যমে কোরবানির সমস্ত বিধি-বিধান অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। ইসলামের এই শাশ্বত বিধানে নিজ থেকে নতুন কোনো নিয়ম বা প্রথা আবিষ্কারের কোনো সুযোগ নেই। যদি কেউ নিজ থেকে নতুন কোনো নিয়ম চালু করে, তবে তা শরিয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ পরিত্যাজ্য ও ভুল বলে গণ্য হবে। আমাদের সমাজে শরিকি কোরবানির ক্ষেত্রে এমনই একটি ভুল প্রথার প্রচলন দেখা যায়, যা পশুর জন্য চরম কষ্টদায়ক।
সাধারণত দেখা যায়, কোরবানির পশুকে জবাইয়ের জন্য মাটিতে শোয়ানোর পর মূল প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত করে শরিকদের নামের একটি দীর্ঘ তালিকা পাঠ করা হয়। শরিয়তের দৃষ্টিতে পশুকে শুইয়ে রেখে এভাবে নামের তালিকা পাঠ করা সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় একটি কাজ। কোরবানিদাতারা মনে মনে যে নির্দিষ্ট পশুর বিনিময়ে কোরবানি করার নিয়ত করেছেন, তা-ই আল্লাহ তাআলার দরবারে কবুল হওয়ার জন্য যথেষ্ট। এর জন্য আলাদা করে মুখে শরিকদের নাম উচ্চারণ বা পাঠ করার কোনো আবশ্যকতা নেই। কিতাবুল আছল, শরহু মুখতাসারিল কারখি, খিযানাতুল আকমাল এবং আলমুহিতুর রাযাবিসহ ইসলামের মৌলিক ফিকহ গ্রন্থগুলোতে এই বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পশুকে মাটিতে শুইয়ে রেখে এভাবে নামের তালিকা পাঠ করার কারণে অবলা পশুকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কষ্ট দেয়া হয়। কোনো কোনো এলাকায় নামের দীর্ঘ তালিকা পড়তে গিয়ে বা তা সংগ্রহ করতে গিয়ে জবাইয়ের কাজ অনেক বিলম্বিত হয়, যা পশুর মনস্তাত্ত্বিক ও শারীরিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অথচ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেকোনো পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কষ্ট দিতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। ইসলামের মূল শিক্ষাই হলো কোনো প্রাণীকে অহেতুক কষ্ট না দেওয়া।
হজরত শাদ্দাদ ইবনে আউস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মহান আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ে তোমাদের ওপর ইহসান বা দয়ার্দ্রতা অত্যাবশ্যক করেছেন। অতএব তোমরা যখন হত্যা করবে, দয়ার্দ্রতার সঙ্গেই হত্যা করবে; আর যখন পশু জবাই করবে, দয়ার সঙ্গে জবাই করবে। তোমাদের প্রত্যেকে যেন জবাইয়ের আগে ছুরি খুব ভালো করে ধারালো করে নেয় এবং তার জবাইকৃত জন্তুকে দ্রুত স্বস্তি দেয়। সহিহ মুসলিমের এই নির্দেশনা থেকে স্পষ্ট যে, জবাইয়ের প্রক্রিয়াটি যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করাই শরিয়তের বিধান।
ইসলামের প্রখ্যাত ফকীহগণের মতে, জবাইয়ের ক্ষেত্রে পশুকে অপ্রয়োজনে ফেলে রাখা বা অতিরিক্ত কষ্ট দেয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও মাকরূহ। আল-মুজতাবা, জামিউর রুমুয, রদ্দুল মুহতার এবং তাকমিলা ফাতহিল মুলহিমের মতো নির্ভরযোগ্য ফিকহী গ্রন্থে পশুকে আরাম দেওয়ার ব্যাপারে জোর দেওয়া হয়েছে। তাই পশুকে শোয়ানোর পর নাম ডাকার প্রথা পরিহার করে দ্রুত জবাই সম্পন্ন করাই ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা।
টিএইচএ/
