৩৬ নিউজ ডেস্ক: জিলহজ মাসের ৯ তারিখ বা আরাফার দিন ইসলামী শরিয়তে অত্যন্ত ফজিলত, তাৎপর্য এবং মর্যাদাপূর্ণ একটি দিন। মূলত এই দিনটিই পবিত্র হজের মূল রুকন তথা বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মেলনের দিন হিসেবে বিবেচিত। বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তের সাধারণ মুসলিমদের জন্য এই বরকতময় দিনটি আল্লাহর পরম নৈকট্য ও মাগফিরাত লাভের এক অনন্য সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করে দেয়।
মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে এই দিনের গুরুত্ব বর্ণনা করে বলেছেন যে, আরাফার দিন হলো বছরের সর্বোত্তম দিন এবং এই বিশেষ দিনে মহান আল্লাহ তায়ালা অসংখ্য মানুষকে জাহান্নামের কঠিন আগুন থেকে চিরতরে মুক্তি দান করেন। তাই এই অত্যন্ত মূল্যবান দিনটির প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে ইবাদত, জিকির ও তাসবিহ পাঠের মাধ্যমে অতিবাহিত করা প্রতিটি মুমিন মুসলমানের জন্য আবশ্যক।
ইসলামী শরিয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী এই বিশেষ দিনের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো রোজা রাখা। যারা বর্তমানে পবিত্র হজের ময়দানে উপস্থিত নেই তথা মিনা ও আরাফার বাইরে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থান করছেন, তাদের জন্য আরাফার দিনে নফল রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আরাফার দিনের রোজা বান্দার পূর্বের এক বছর এবং পরের এক বছরের সমস্ত সগিরা গুনাহ ক্ষমা করে দেয়। সহিহ মুসলিম শরিফের এই হাদিস থেকে স্পষ্ট যে, মাত্র একদিনের রোজা একজন মুমিনের জীবনে দুই বছরের গুনাহ মোচনের এক বিশাল সুযোগ এনে দেয়। এর পাশাপাশি জিলহজ মাসের ৯ তারিখ ফজর নামাজ থেকে শুরু করে ১৩ তারিখ আসর নামাজ পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর উচ্চস্বরে একবার ‘তাকবিরে তাশরিক’ পাঠ করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ওয়াজিব। এটি এই বরকতময় দিনগুলোর অন্যতম প্রধান একটি সামষ্টিক আমল।
ফুকাহায়ে কেরামদের মতে, আরাফার দিন হলো মহান আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠতম দিন। এদিন অভিশপ্ত শয়তান পৃথিবীতে অত্যন্ত লাঞ্ছিত ও অপমানিত বোধ করে, কারণ আল্লাহ তায়ালা তার গুনাহগার বান্দাদের ওপর অঝোর ধারায় রহমত, মাগফিরাত ও দয়া বর্ষণ করেন। তাই এই দিনে ব্যক্তিগত ছোট ও বড় সব ধরণের গুনাহের জন্য কায়মনোবাক্যে আল্লাহর কাছে খাঁটি তওবা ও ইস্তেগফার করা উচিত। এছাড়া দোয়ার জন্য আরাফার দিনের চেয়ে উত্তম আর কোনো দিন ইসলামের ইতিহাসে নেই।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সর্বোত্তম দোয়া হলো আরাফার দিনের দোয়া। এই পবিত্র দিনে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির’ এই তাওহীদি দোয়াটি বেশি বেশি পাঠ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নাত আমল।
জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের যেকোনো নেক আমল আল্লাহর কাছে বছরের অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি প্রিয় ও মর্যাদাপূর্ণ। তাই ৯ জিলহজ বা আরাফার দিনে নিজের সাধ্যমতো অভাবী ও নিস্ব মানুষকে আর্থিক সাহায্য বা দান-সদকা করা, বেশি বেশি নফল নামাজ পড়া এবং পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে সময় কাটানো অত্যন্ত ফলদায়ক।
সর্বোপরি, আরাফার দিনে শুধু জিহ্বা দিয়ে জিকির করাই যথেষ্ট নয়, বরং নিজের চোখ, কান, হাত ও পা সহ সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে সব ধরণের পাপ কাজ থেকে পুরোপুরি দূরে রাখতে হবে। এই মহিমান্বিত দিনে যারা নিজেদের পাপাচার থেকে সফলভাবে হেফাজত করবে, মহান আল্লাহ তাদের জীবনের সমস্ত নেক আশা পূরণ করবেন এবং বিশেষ অনুগ্রহ দান করবেন।
টিএইচএ/
