আদিব সৈয়ব :: সম্প্রতি জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে বায়তুল মোকাররমের খতীব মুফতী আবদুল মালেক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মাথায় টুপি পরিয়ে দেওয়ার সহজ বিষয়টির সমালোচনা করে জামায়াতি এক্টিভিস্ট তারেক মনোয়ার সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তিনি মুফতী আবদুল মালেক-এর টুপি পরিয়ে দেওয়ার বিষয়টিকে চাটুকারিতার কাজ উল্লেখ করে লিখেছেন, বায়তুল মোকাররমের খতীব হয়েও যাতে পালাতে না হয়, সে কথা স্মরণে রেখেই আবেগ দেখানো উচিত।
তারেক মনোয়ারের পোস্টের নিচে তীব্র সমালোচনা দেখিয়েছেন নেটিজেনরা। ছয় হাজার রিয়েক্ট এর মধ্যে লাভ রিয়েক্ট পেয়েছেন মাত্র ১১৪টি। তার ম্যাসেজ অপশনেও নেটিজেনরা সমালোচনায় মুখর হয়েছেন। নিচের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে পাওয়া কিছু সমালোচনা উল্লেখ করা হলো-
লেখক ও গবেষক শরীফ মুহাম্মদ লিখেছেন, কী কইতাম? এই অপদার্থরা এখনো মাওলানা আব্দুল মালেক সাহেব কী জিনিস, বুঝলো না। এলেমে, আমলে ব্যক্তিত্বে তিনি কোন পর্যায়ের মানুষ, এটাতো অন্তত খোঁজ নিয়ে জানা উচিত এই নাদান গোষ্ঠীর। আল্লাহ তাআলা এদের বুঝ দিন। মিথ্যাচার, বাটপারি, পরশ্রীকাতরতা ও অহংকার থেকে বিরত হওয়ার তাওফিক দিন।
আল্লাহ তাআলা হযরত মাওলানা আব্দুল মালেক সাহেবের খেদমতের দ্বারা এ জাতিকে, জাতির নেতৃত্বকে, আম মানুষকে উপকৃত হওয়ার তাওফিক দান করুন।
দেশের সুবক্তা খালিদ সাইফুল্লাহ্ আইয়ুবী লিখেছেন, খতীব সাহেব হাফিজাহুল্লাহু তাআলা। আল্লাহ তায়ালা উম্মতের কল্যাণে লম্বা নেক হায়াত দান করেন।
লেখক ও গবেষক আবদুল্লাহ আল ফারুক লিখেছেন, আবারও শুকরিয়া জানাই, দেশের প্রবীণ হক্কানি উলামায়ে কেরাম ও জমিয়তের নেতৃবৃন্দকে। আসাগিররা বাতিল চিনতে ভুল করলেও আমাদের আকাবিররা ভুল করেননি। এই বাতিলরা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআর জন্য কতটা খতরনাক, তা ইতোমধ্যে আসাগিররাও বুঝতে পারছেন।
কওমি উদ্যোক্তা ও লেখক রোকন রাইয়ান লিখেছেন, তারেক মনোয়ারদের সমস্যা হলো এরা চরম উলামা বিদ্বেষী, আলেমদের কারণে তারা ইসলামকে যথা ইচ্ছা ব্যবহার করতে পারেন না। এ জন্য কওমি মাদ্রাসার লোকজন তাদের প্রধান শত্রু। কথায় কথায় বিদ্বেষ পোষণ করা এদের কাজ।
মুফতি আব্দুল মালেক সাহেব প্রধানমন্ত্রীকে টুপি পরিয়ে নিঃন্দেহে দারুন কাজ করেছেন। একজন ইমামের দায়িত্ব তার মুসল্লিকে সংশোধন করা। এই কাজটিকে কেনো ফ্যাসিবাদ আমলের পলাতক ইমামের সাথে তুলনা করতে হলো? কোন যুক্তিতে?
সমস্যা মূলত প্রথম প্যারাটা। যে কারণে মাওলানা মা’মুনুল হকসহ বড় একটা গোষ্ঠী তাদের সাথে থাকলেও তারা খুশি না। তারা চায় সমস্ত আলেম, দল, মাদ্রাসা তাদের সাথে থাকুক। তারা যেভাবে চায় সেই পথে চলুক। তাহলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। কিন্তু বিষয়টা তো এতো সরল না। খতিব রুহুল আমীন আর খতিব আব্দুল মালেক এক নন, পার্থক্য বুঝতে হবে। না হলে কাকে দেশ থেকে পালাতে হয় সময়ই বলে দেবে।
তারেক মনোয়ারের এমন পোস্টের বিষয়ে মুফতী শফিক সাদী লিখেছেন, বেয়াদবির একটা লিমিট থাকে। লিমিট ক্রস বেয়াদবগুলোকে থামানোর জামাতে কেউ নাই কি? নাকি জামায়াতকে ডুবানোর জন্য এই বেয়াদবগুলোকে আল্লাহ জামায়াতে রেখে দিয়েছেন।
লেখক ফারুক ফেরদৌস লিখেছেন, তারেক মনোয়ারের সমমনা অনেকেরই চিন্তা ভাবনা এ রকম। তারা স্বপ্ন দেখেন এবং বলেনও, পাঁচই আগস্টের পরে অনেকের মুখে শুনেছি যে, একদিন এই দেশ থেকে বিএনপিও পালিয়ে যাবে যেমন আওয়ামী লীগ পালিয়ে গেছে। তাদের বিরোধী অন্যরাও পালিয়ে যাবে। এই দেশে শুধু তারাই থাকবেন। দেশটা একদিন শুধু তাদের হবে।
লেখক ও গবেষক সৈয়দ শামসুল হুদা লিখেছেন, ওঁরা সুযোগ নিবে অনেক দিবে যৎসামান্য। “সেদিন এজন্যই বলেছিলাম, আপনি বেরিয়ে আসুন। তাহলে আমরা আপনার সাথে আছি। নইলে নাই। ওরা সর্বগ্রাসী। ওরা আপনার দশ টাকার পণ্য আশি টাকায় ক্রয় করতে চায়, আপনার ভাষায়: তারা সে পণ্য যতদিন তিনশ’ টাকায় বেচতে পারবে। যখনই ওরা আপনার পণ্য তিনশ’ টাকায় বেচতে অক্ষম হবে, তখনই ওরা আপনাকে আবার ১০ টাকায় ফিরিয়ে দিবে।
ওদের ভেতর বাইর কখনোই এক নয়। ওরা নিষ্ঠুর পদ্ধতিতে হিসাব করে কেনাবেচা করে। ওরা আব্দুল মালেক সাহেবকে ছাড় দেয় না, মানে ওদের বাইরের গোটা আলেম সমাজকে প্রচণ্ড রকম ঘৃণা করে। উস্তাদ, ওরা আপনাকে দিয়ে সুযোগ নিবে অনেক। দিবে যৎসামান্য।
লেখক ও বক্তা যুবায়ের আহমদ লিখেছেন, ফেসবুকে সেলিব্রিটিদের নামে ফেক আইডির ছড়াছড়ি এজন্য প্রথমে বিশ্বাস করিনি এটা তারিক মুনাওয়ার সাহেব পোস্ট করেছেন। সার্চ করে দেখি তার এখান থেকেই করা। কীভাবে সম্ভব?
দেশের শীর্ষ ও বিজ্ঞ একজন আলেমের এ কাজকেও সমালোচনা করতে হয়!! জাতীয় মসজিদের খতিব সাহেব কি খারাপ কিছু করেছেন?
দাওয়াহ’র অনেক পদ্ধতি আছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী টুপি পরেন না, খতিব সাহেব হয়তো প্ল্যান করেই টুপি নিয়ে গেছেন যে, আজও যদি টুপি ছাড়া আসেন তাহলে আমি টুপি পরিয়ে দেব! এতে কী খারাপ হলো? তিনি কী আবেগ দেখালেন? তিনি কি তোষামোদ করেছেন? এমন বলেছেন যে টুপি পরেননি, ভালোই করেছেন?
মাওলানা আব্দুল মালেক সাহেবকে পালাতে হবে না ইনশাআল্লাহ! আর তিনি এসব পদের জন্য আগ্রহীও ছিলেন না। তাকে অনুরোধ করে আনা হয়েছে।
তাকে নিয়ে সমালোচনা করার আগে নিজের ইদানিংকার দুএকটি বক্তব্য পুরো শুনে নিজেই বিচার করবেন কী বলেন আপনি। আর এভাবে সমালোচনা করতে থাকলে তো পোলাপান যদি আপনার সব বক্তব্য ধরে ধরে রিভিউ দেয় তখন??
মনোভাবের পরিবর্তন না হলে গণমানুষে পৌঁছতে পারবেন না মুহতারাম!
মাদরাসা দারুস রাশাদের শিক্ষক ও লেখক এনামুল করীম ইমাম লিখেছেন, জামায়াতীরা বোঝাতে চায় যে, আওয়ামী লীগ যেভাবে পালিয়েছে, বিএনপিও সেভাবে পালাবে। সাথে সাথে অন্যরাও উধাও হয়ে যাবে। থাকবে কেবল এই জামায়াতীরা।
আপনি একটু কল্পনা করুন তো, শুধু জামায়াতীদের বাংলাদেশ কেমন হবে? সেই বাংলাদেশ কি আদৌ ইসলাম, মানবিকতা ও ইনসাফ সমৃদ্ধ হবে?
জুনাইদ ইসলাম আবির ফেসবুকে লিখেছেন, জনাব, Tariq Monowar সাহেব আপনি আজ খতিবে বাঙাল আব্দুল মালেক হাফি. Pm কে টুপি পরানো দেখে খতিব সাহেবকে নিয়ে এটা কি ইংগিত দিয়েছেন। চাটুকারিতার? অথচ এই কাজের মাধ্যমে হুজুর Pm কে সুন্নাহর প্রতি এক প্রকার দাওয়াত দিলেন যা গোটা জাতির জন্য শিক্ষা অথচ আপনি ও আপনার চেলা চামচারা এটা ভিন্ন দিকে ঘোরানোর চেষ্টা করছেন। টুপি পরানো যদি চাটুকারিতা হয় তাহলে ড. ইউনুসকে নিয়ে আপনার মাত্রাতিরিক্ত বক্তব্য গুলো কী? আপনার অন্যান্য বিতর্কিত বক্তব্যের কথা নাই বললাম এখানে… ।
আপনি আপনার শহিদ নেতৃবৃন্দদের থেকে ও আপনার আমির সাহেব থেকে ভাবগাম্ভীর্যতা শিখুন কম কথা বলুন হিকমত অম্বলম্বন করুন। এতে নিজের,দেশ ও জাতির উপকার হবে।অন্যথায় আমির সাহেবের হেকমত,নম্রতা কোন কাজেই আসবে না। আর যদি মাইক পেলেই নিজেকে পন্ডিত মনে করে বকবকানি শুরু করেন তাহলে তো এমন বিতর্কিত বক্তব্য বের হবেই। যা খুব পীড়াদায়ক ও কাজের জন্য ক্ষতিকর।
জামাত শিবিরের নেতৃবৃন্দ এমন ব্যাক্তিদের যত দূরে রাখবে ততই ভালো।
গতকাল ঈদের দিনে দেওয়া পোস্টের এমন রিয়েক্টের পরও তারেক মনোয়ার বৃহস্পতিবার সকালে আবার এক পোস্টে বলেছেন,
জুলাই যোদ্ধাদের ত্যাগ ও কুরবানির বিনিময়ে জাতীয় মসজিদ স্বাধীন হলেও মিম্বার থেকে গণভোট বাতিলের বিরুদ্ধে কোনো আওয়াজ নেই। এটা গোলামী না আজাদী?
