চলতি ফার্সি বছরের (১৪০৪) প্রথম ১০ মাসে ইরানে মোট ২৪ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার হস্তনির্মিত কার্পেট উৎপাদিত হয়েছে। এ খাত থেকে রপ্তানির মাধ্যমে দেশটি ৩০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে।
ইরানের জাতীয় কার্পেট কেন্দ্রের প্রধান জাহরা কামানি জানিয়েছেন, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ইরানের হস্তনির্মিত কার্পেট বিশ্বের ৬১টি দেশে রপ্তানি করা হয়েছে। মোট রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭৩৭ টন, যার আর্থিক মূল্য ৩০ মিলিয়ন ডলারের বেশি।
কামানি জানান, এ সময়ের মধ্যে ইরানি হস্তনির্মিত কার্পেটের সবচেয়ে বড় আমদানিকারক দেশ ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। এরপর রয়েছে জার্মানি, জাপান, চীন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা। এই পাঁচ দেশই ছিল ইরানি কার্পেটের প্রধান বাজার।
তিনি আরও বলেন, ইরানের বিভিন্ন প্রদেশে হাজারো কারিগরের শ্রম ও দক্ষতার মাধ্যমে এ ২৪ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার কার্পেট উৎপাদিত হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এ শিল্প এখনো দেশের সংস্কৃতি ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে টিকে আছে।
কামানি জানান, ইরানের হস্তনির্মিত কার্পেট শিল্পকে আরও গতিশীল করতে বিভিন্ন সহায়ক কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে তেহরানের স্থায়ী প্রদর্শনী কেন্দ্রে ৩২তম আন্তর্জাতিক হস্তনির্মিত কার্পেট প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।
তিনি বলেন, এ বছরের প্রদর্শনীটি ইরানের শিল্প, খনি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় অনুষ্ঠিত হবে। প্রদর্শনীতে অংশ নেয়া হস্তনির্মিত কার্পেট উৎপাদকদের জন্য স্টল ভাড়ায় ৫০ শতাংশ ছাড় দেয়া হবে। এর ফলে উৎপাদকরা কম খরচে নিজেদের পণ্য দেশি-বিদেশি ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরতে পারবেন।
কামানি উল্লেখ করেন, ইরানের ঐতিহ্যবাহী এ শিল্প ও শিল্পখাতকে চাঙা করতে বিভিন্ন সহায়তামূলক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ৩২তম আন্তর্জাতিক হস্তনির্মিত কার্পেট প্রদর্শনী সেই প্রচেষ্টারই অংশ, যা দেশীয় উৎপাদকদের বৈশ্বিক বাজারে আরও শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
এনআর/
