আফগানিস্তানের খোস্ত, পাক্তিয়া, পাক্তিকা, লোগার এবং কান্দাহারসহ বেশ কয়েকটি প্রদেশে জুমার নামাজের খুতবায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘জিহাদ’ বা যুদ্ধের ডাক দিয়েছেন স্থানীয় মসজিদের ইমামগণ।
শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজের পর সমবেত মুসল্লিদের সামনে তারা এই ঘোষণা দেন। পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলার প্রতিবাদে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এসব ধর্মীয় নেতারা।
আফগানিস্তান ইন্টারন্যাশনালের বরাতে জানা যায়, মসজিদের খুতবায় ইমামরা পাকিস্তানি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানোর জন্য সরাসরি উদ্বুদ্ধ করেছেন। তারা বলেন, আফগানিস্তানের ওপর বারবার আকাশপথে হামলা চালিয়ে পাকিস্তান ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলোতে এই ঘোষণার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজুদ্দিন হাক্কানি। তিনি পাকিস্তানকে এমন কোনো উস্কানিমূলক পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যা তালেবান সরকারকে জাতীয় গণঅভ্যুত্থান এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জিহাদ’ ঘোষণা করতে বাধ্য করে। হাক্কানি স্পষ্ট করে বলেন, পরিস্থিতির অবনতি হলে এর দায়ভার পাকিস্তানকেই নিতে হবে।
আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ এই ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অবস্থান দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে এক চরম সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে প্রভাবশালী আলেমদের পক্ষ থেকে জিহাদের ডাক আসায় সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
সূত্র: আফগানিস্তান ইন্টারন্যাশনাল
টিএইচএ/
