যেভাবে ক্ষমতার চূড়ায় বসেছিলেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি

by Fatih Work

ইরানের রাজতন্ত্রবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটির ভাগ্যবিধাতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

১৯৩৯ সালে উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরে এক রক্ষণশীল পরিবারে জন্ম নেওয়া খামেনি ছাত্রজীবন থেকেই ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৬২ সালে তিনি তৎকালীন শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির শাসনবিরোধী আন্দোলনে শামিল হয়ে আয়াতুল্লাহ খোমেনির ঘনিষ্ঠ অনুসারীতে পরিণত হন। শাহের আমলে একাধিকবার কারাবরণ করলেও দমে যাননি তিনি। ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক ইসলামি বিপ্লবের পর তিনি বিপ্লবী পরিষদে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এবং ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) সংগঠিত করতে প্রধান ভূমিকা রাখেন।

বিজ্ঞাপন
banner

১৯৮১ সালে এক বোমা হামলায় গুরুতর আহত হয়ে ডান হাত পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় থাকেন। একই বছর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ-আলী রাজাইয়ের হত্যাকাণ্ডের পর খামেনি ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন এবং টানা আট বছর এই দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৯ সালে খোমেনির মৃত্যুর পর বিশেষজ্ঞ পরিষদ তাকে ইরানের দ্বিতীয় ‘সর্বোচ্চ নেতা’ হিসেবে নির্বাচিত করে। যদিও তখন তার প্রয়োজনীয় ধর্মীয় পদমর্যাদা নিয়ে বিতর্ক ছিল, তবে রাতারাতি তাকে ‘আয়াতুল্লাহ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয় এবং সংবিধান সংশোধন করে তার হাতে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ন্যস্ত করা হয়।

সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে খামেনি ছিলেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে শুরু করে পররাষ্ট্রনীতি—সবক্ষেত্রেই তার সিদ্ধান্তই ছিল চূড়ান্ত। তার শাসনামলে ছয়জন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালন করলেও কাউকেই তিনি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের মূল কাঠামো বা তার একক কর্তৃত্ব চ্যালেঞ্জ করতে দেননি। ১৯৯৭ সালে সংস্কারপন্থী নেতা মোহাম্মদ খাতামির পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টায় তিনি বাধা হয়ে দাঁড়ান। আবার ২০০৯ সালে মাহমুদ আহমাদিনেজাদের বিতর্কিত পুনর্নির্বাচনের পর সৃষ্ট বিশাল জনবিক্ষোভ কঠোরভাবে দমনে সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খামেনি একাধিক সংকটের মুখোমুখি হন। ২০১৯ সালের জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে গণবিক্ষোভ, ২০২০ সালে ভুলবশত ইউক্রেনীয় যাত্রীবাহী বিমান ভূপাতিত করা এবং কাসেম সোলেইমানি হত্যার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের হুমকি তাকে বারবার আলোচনায় আনে। ইসরায়েল রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার প্রকাশ্য আহ্বান এবং মার্কিন আধিপত্যের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের কারণে তিনি ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন।

অবশেষে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ হামলায় নিভে যায় ইরানের এই প্রভাবশালী অধ্যায়ের প্রদীপ।

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222