পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ওয়েবসাইটে বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। একটি হ্যাকার গ্রুপ এই হামলার দায় স্বীকার করে দাবি করেছে যে, তারা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ছাড়াও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মন্ত্রণালয় এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওয়েবসাইটগুলো সফলভাবে হ্যাক করেছে। হ্যাকারদের পক্ষ থেকে আক্রান্ত ওয়েবসাইটগুলোর একটি তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে।
আফগানিস্তান ইন্টারন্যাশনালের এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আক্রান্ত তালিকার বেশিরভাগ ওয়েবসাইটই বর্তমানে অফলাইনে রয়েছে এবং সাধারণ ব্যবহারকারীরা সেগুলো অ্যাক্সেস করতে পারছেন না। তবে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের মূল ওয়েবসাইটটি এখনো সচল দেখা গেলেও হ্যাকারদের দাবি অনুযায়ী অনেক অভ্যন্তরীণ তথ্য বা সাব-পেজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই সাইবার হামলার ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন পাকিস্তানের প্রধান গণমাধ্যমগুলোতেও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর আগে পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংবাদভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল ‘জিও নিউজ’-এর লাইভ ট্রান্সমিশনে আকস্মিকভাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও সামরিক নেতৃত্বের সমালোচনা করে একটি বার্তা এবং ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের নাম সম্বলিত একটি বিতর্কিত বার্তা স্ক্রিনে ভেসে ওঠে। ঘটনার পর জিও নিউজ কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, গত ২৪ ঘণ্টা ধরে তাদের সিস্টেম হ্যাক করার এবং সম্প্রচার ব্যাহত করার একাধিক চেষ্টা চালানো হয়েছে। টেলিভিশন স্ক্রিনে প্রদর্শিত আপত্তিকর বার্তার সাথে চ্যানেলের কোনো সম্পর্ক নেই বলে তারা নিশ্চিত করেছে।
পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ এই সিরিজ সাইবার হামলার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জিও নিউজসহ অন্যান্য সরকারি সংস্থাগুলো এই নজিরবিহীন সাইবার অনুপ্রবেশের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছে। পাকিস্তান টেলিযোগাযোগ কর্তৃপক্ষ (পিটিএ) এবং সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে ওয়েবসাইটগুলো পুনরুদ্ধারে কাজ শুরু করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান আঞ্চলিক অস্থিরতা এবং ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানকে সাইবার যুদ্ধের লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
তথ্যসূত্র: আফগানিস্তান ইন্টারন্যাশনাল
টিএইচএ/
