আফগানিস্তানের পাকতিয়া প্রদেশের ডুরান্ড লাইন সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর অব্যাহত হামলায় মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিনের ভয়াবহ সংঘর্ষ ও গোলাবর্ষণের মুখে ওই অঞ্চলের ডান্ড পাতান, সামকানি এবং আরিয়াব জাজি জেলা থেকে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। পাকতিয়া শরণার্থী ও প্রত্যাবাসন দপ্তরের প্রধান হাবিবুল্লাহ শাহিদজাদা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রাণ বাঁচাতে এই বিপুল সংখ্যক মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পার্শ্ববর্তী জেলা, প্রদেশের সদর দপ্তর এমনকি রাজধানী কাবুলেও আশ্রয় নিয়েছে। ঘরছাড়া এই পরিবারগুলো এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে।
আক্রান্ত এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, পাকিস্তানি বাহিনী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে ভারী অস্ত্র ও কামানের গোলা নিক্ষেপ করছে। সীমান্ত রেখা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ভেতরে অবস্থিত গ্রামগুলোও এই গোলাবর্ষণ থেকে রেহাই পাচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি ব্যাপক আর্থিক ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বাস্তুচ্যুত বাসিন্দা রইস খান জানান, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তারা এলাকা ছেড়ে সামকানি অঞ্চলে আশ্রয় নিয়েছেন। দীর্ঘ সময় পর নিজের ঘরবাড়ির অবস্থা দেখতে ফিরে এলেও পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। আরেক ভুক্তভোগী ফকির নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, আফগান বাহিনী সংযম প্রদর্শন করলেও পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক জনপদ ও গ্রামগুলোকে টার্গেট করছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) তাদের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যবর্তী ডুরান্ড লাইন সীমান্তে সাম্প্রতিক উত্তেজনার ফলে আফগান অংশে এ পর্যন্ত প্রায় ১ লক্ষ ১৫ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এই বর্বরোচিত হামলা বন্ধে এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসলে এই বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: টোলো নিউজ
টিএইচএ/
