রমজান আমাদের জীবনে আত্মশুদ্ধি ও মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাস। এ মাসের শেষ দশকের মধ্যেই নিহিত রয়েছে ‘লাইলাতুল কদর’ বা শবে কদরের রাত, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। আল্লাহ তাআলা এই সময়ে বান্দাদের জন্য ক্ষমা ও রহমতের দরজা উন্মুক্ত করে দেন। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) রমজানের শেষ দশকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিশেষ কিছু আমল পালন করতেন। নবীজির সেই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ আমল অনুসরণের মাধ্যমে আমরাও পারি আমাদের রমজানকে সার্থক করতে।
রমজানের শেষ দশকের প্রথম ও প্রধান আমল হলো ইতেকাফ করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইন্তেকাল পর্যন্ত প্রতি বছর রমজানের শেষ দশদিন ইতেকাফ পালন করেছেন এবং তাঁর স্ত্রীগণও এই সুন্নত অনুসরণ করেছেন। মূলত লাইলাতুল কদর প্রাপ্তির লক্ষ্যেই তিনি মসজিদে অবস্থান করতেন।
দ্বিতীয় আমল হিসেবে নবীজি (সা.) এই সময়ে বেশি বেশি তওবা ও ইস্তিগফার করার ওপর জোর দিতেন। মানুষের গুনাহ হওয়া স্বাভাবিক, তবে আল্লাহর কাছে সেই বান্দাই প্রিয় যে অনুতপ্ত হয়ে তওবা করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দিনগুলোতে “আসতাগফিরুল্লাহাল আজিম, আল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়ুল কাইয়ুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি” দোয়াটি বেশি বেশি পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
তৃতীয়ত, শেষ দশকে ইবাদতের মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়া নবীজির অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল। হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, যখন রমজানের শেষ দশক আসত, নবীজি (সা.) ইবাদতের জন্য কোমর বেঁধে প্রস্তুতি নিতেন, নিজে রাত জাগতেন এবং পরিবারের সদস্যদেরও ইবাদতের জন্য জাগিয়ে তুলতেন।
চতুর্থ গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো শবে কদর তালাশ করা। নবীজি (সা.) বলেছেন, তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করো। এই রাতে তিনি “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফাআফু আন্নি” দোয়াটি পাঠ করার শিক্ষা দিয়েছেন।
পঞ্চম ও চূড়ান্ত আমল হিসেবে নবীজি (সা.) সদকাতুল ফিতর আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। রোজাদারের রোজার ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করতে এবং গরিব-অসহায়দের ঈদের আনন্দে শামিল করতে ঈদের নামাজের আগেই ফিতরা আদায় করা বাধ্যতামূলক। তাই এই মহিমান্বিত সময়কে কাজে লাগিয়ে আমাদের উচিত নবীজির সুন্নত অনুযায়ী আমল করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা।
টিএইচএ/
