আব্দুল্লাহ কাসিম আজওয়াদ >>
মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মাসিক সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কার্যক্রম উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন মুফতি ফয়জুল করীম।
শনিবার (১৪ মার্চ) বেলা ১১টা ২০ মিনিটে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে সম্মানী কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর শায়েখে চরমোনাই মুফতি ফয়জুল করীমসহ দেশের বিভিন্ন আলেম-ওলামা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শায়খ আহমাদুল্লাহ ও মুফতি সাইফুল ইসলামসহ ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা।
সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের মাসিক সম্মানী প্রদানের পাশাপাশি পুরোহিত, সেবায়েত, বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ এবং গির্জার যাজকদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রমও উদ্বোধন করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে দেশের হাজার হাজার ধর্মীয় সেবককে মাসিক ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক বার্তায় জানানো হয়, প্রথম পর্যায়ে দেশের ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমের পাশাপাশি ৯৯০টি মন্দিরের পুরোহিত, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ এবং ৩৯৬টি গির্জার যাজকসহ উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সম্মানী দেওয়া হবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি মসজিদের জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইমাম পাবেন ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার টাকা এবং খাদেম পাবেন ২ হাজার টাকা।
অন্যদিকে প্রতিটি মন্দিরের জন্য ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে পুরোহিত পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং সেবায়েত ৩ হাজার টাকা করে পাবেন। প্রতিটি বৌদ্ধবিহারের জন্যও ৮ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে—অধ্যক্ষ পাবেন ৫ হাজার এবং উপাধ্যক্ষ ৩ হাজার টাকা। একইভাবে প্রতিটি খ্রিস্টান চার্চের জন্য ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে পালক বা যাজক পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং সহকারী যাজক পাবেন ৩ হাজার টাকা।
প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জাবিউল্লাহ জানান, প্রতি বছর ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে অতিরিক্ত বোনাস দেওয়া হবে। মসজিদের কর্মকর্তারা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় বছরে দুবার এক হাজার টাকা করে বোনাস পাবেন। অন্যদিকে দুর্গাপূজা, বৌদ্ধপূর্ণিমা বা বড়দিন উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের দুই হাজার টাকা করে বোনাস দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, যেসব মসজিদ সরকারি বা দেশি-বিদেশি সংস্থার অনুদানপ্রাপ্ত, সেগুলো এই সুবিধার বাইরে থাকবে। চলতি অর্থবছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রায় ২৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয় হবে। পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতি অর্থবছরে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে এবং চার বছর ধরে পর্যায়ক্রমে এটি বাস্তবায়ন করা হবে। সম্মানীর অর্থ সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে দেওয়া হবে এবং ধাপে ধাপে দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে এই কর্মসূচি চালু করা হবে।
এদিকে এ উদ্যোগকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ইসলামি চিন্তাবিদ মুফতি মনোয়ার হুসাইন সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান আলেমদের সম্মান করছেন, নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি সীমিত পরিসরে হলেও দ্রুত শুরু করেছেন। ভালো কাজগুলো আরও ভালোভাবে করার তাওফিক দান করুন। পীরসাহেব চরমোনাইকে পাশে নেওয়ার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী যে হিংসুক বা বিদ্বেষপ্রবণ নন, তা প্রমাণ হয়েছে। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে দ্বীনের জন্য কবুল করুন।”
অন্যদিকে আলেম মুফতি মুহিউদ্দিন কাসেমী লিখেছেন, “দৃশ্যটা সুন্দর। রাজনৈতিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও মুফতি ফয়জুল করীম সাহেবকে দাওয়াত দিয়ে সম্মানিত করেছেন। সংস্কারপন্থী নেতাকে স্পিকার বানিয়েও চমক দেখিয়েছেন তারেক রহমান।”
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মসজিদভিত্তিক দ্বীনি শিক্ষার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেভাবে বয়স্ক ও গণশিক্ষা কর্মসূচি চালু করেছিলেন, সেভাবেই মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে এবং এ বিষয়ে আরও উদ্যোগ নেওয়া হবে।
হাআমা/
