ঔপনিবেশিক আমলের সীমান্ত বিরোধ ও খনিজ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে ঐকমত্যে পৌঁছেছে পশ্চিম আফ্রিকার তিন দেশ গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওন।
সোমবার (১৬ মার্চ) গিনির রাজধানী কুনাক্রিতে আয়োজিত এক রুদ্ধদ্বার শীর্ষ সম্মেলনে তিন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা সংলাপ ও কূটনৈতিক পন্থায় বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের অঙ্গীকার করেন। সম্প্রতি লাইবেরিয়া সীমান্তে গিনির সেনা মোতায়েন এবং সিয়েরা লিওনের সঙ্গে সীমান্ত সংঘর্ষের ঘটনায় ওই অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার পর এই জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।
গিনির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট মামাদি ডুম্বুয়া’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট জোসেফ বোয়াকাই এবং সিয়েরা লিওনের প্রেসিডেন্ট জুলিয়াস মাদা বিও অংশ নেন। এছাড়া আইভরি কোস্ট এই বৈঠকে ‘সাক্ষী রাষ্ট্র’ হিসেবে উপস্থিত ছিল। সম্মেলন শেষে নেতারা মানো রিভার ইউনিয়ন (MRU) অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেন এবং সীমান্ত চিহ্নিতকরণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য একটি যৌথ কারিগরি কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন। উল্লেখ্য, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি গিনি ও সিয়েরা লিওন সীমান্তের বিতর্কিত ইয়িঙ্গা এলাকায় উভয় দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এছাড়া ১১ মার্চ লাইবেরিয়া সীমান্তে খনি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনার জেরে ফাঁকা গুলি বর্ষণের ঘটনাও ঘটে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিরোধের মূলে রয়েছে ঊনবিংশ শতাব্দীতে ফরাসি ও ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকদের টেনে যাওয়া অস্পষ্ট সীমানা। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব গিনির ইয়িঙ্গা অঞ্চলটি স্বর্ণ ও হীরা সমৃদ্ধ হওয়ায় দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এই এলাকাটি বিরোধের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর অর্থনৈতিক জোট ইকোওয়াস (ECOWAS) এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছিল। কুনাক্রি সম্মেলনের এই প্রতিশ্রুতিগুলো শেষ পর্যন্ত স্থায়ী শান্তি আনতে পারে কি না, তা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
টিএইচএ/
