বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নেফ্রোলজি ও ইউরোলজি বিভাগের চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে সফলভাবে একটি কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে আক্রান্ত এক সন্তানকে নিজের কিডনি দান করে নতুন জীবন দান করেছেন তার গর্ভধারিণী মা।
সফল অস্ত্রোপচার ও পরবর্তী পর্যবেক্ষণ শেষে বুধবার (২৫ মার্চ) সুস্থ অবস্থায় মা ও ছেলেকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এই জটিল ও ব্যয়বহুল চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দেশের এক প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই রোগী দীর্ঘদিন ধরে কিডনি বিকল জনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। বেঁচে থাকার জন্য তিনি সম্পূর্ণভাবে ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন, যা তার দরিদ্র পরিবারের পক্ষে চালিয়ে নেওয়া অসম্ভব ছিল। এই পরিস্থিতিতে অসহায় মায়ের আকুতিতে সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তার ব্যক্তিগত সহায়তায় চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি রোগীকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। গত ২৮ জানুয়ারি মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তে যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে ২ মার্চ সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।
দাতা (ডোনার) মায়ের শরীর থেকে কিডনি অপসারণ দলের নেতৃত্বে ছিলেন ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. তৌহিদ মো. সাইফুল ইসলাম দিপু। অন্যদিকে, গ্রহীতার শরীরে কিডনি প্রতিস্থাপন দলের নেতৃত্ব দেন অধ্যাপক একেএম খুরশিদুল আলম ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. রফিকূল ইসলাম। পুরো প্রক্রিয়াটি নেফ্রোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়।
বুধবার রোগীর ছাড়পত্র দেওয়ার সময় উপস্থিত থেকে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। দেশে এ ধরনের জটিল চিকিৎসা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে ডা. মো. রফিকূল ইসলাম বলেন, আইনি জটিলতার কারণে দেশে প্রয়োজনে তুলনায় কিডনি প্রতিস্থাপনের সংখ্যা এখনও কম। তবে দেশীয় চিকিৎসকদের দক্ষতা আন্তর্জাতিক মানের, যা এই সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হয়েছে। তিনি আরও জানান, চিকিৎসকদের ওপর রোগীদের আস্থা ও আধুনিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে। ছাড়পত্র পেয়ে হাসপাতাল ত্যাগের সময় আবেগাপ্লুত মা তার সন্তানের সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
টিএইচএ/
