পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘোষিত সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতি শেষ হতে না হতেই পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের বিতর্কিত সীমান্ত রেখায় পুনরায় ভয়াবহ সংঘর্ষ শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) আফগানিস্তানের পূর্ব সীমান্ত এলাকায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৩ জন আফগান বেসামরিক নাগরিক এবং একজন পাকিস্তানি সেনা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কাবুলের স্থানীয় প্রশাসন ও সীমান্ত সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আফগানিস্তানের কুনার প্রদেশের তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক পরিচালক জিয়াউর রহমান স্পিন ঘার জানান, পাকিস্তানি বাহিনী কুনারে সারকানি এলাকায় কয়েক ডজন কামানের গোলা নিক্ষেপ করেছে। এতে ২ জন বেসামরিক নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এছাড়া সারকানি এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর কামানের গোলা ও ড্রোন হামলায় আরও এক আফগান নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। এই হামলার জবাবে আফগান সীমান্তরক্ষী বাহিনী পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে পাকিস্তানের তিনটি সামরিক চৌকি ধ্বংস করেছে এবং একজন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছেন ওই কর্মকর্তা। তবে মাঠপর্যায়ে কঠোর বিধিনিষেধের কারণে হতাহতের এই সংখ্যা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এক স্থানীয় কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, আফগান বাহিনীই সীমান্তের একাধিক পয়েন্টে প্রথমে উস্কানিমূলক গুলিবর্ষণ শুরু করে। পাকিস্তান বলছে, তারা কেবল আত্মরক্ষার্থে পাল্টা জবাব দিয়েছে। এই উত্তেজনা এমন এক সময়ে বৃদ্ধি পেল যখন কয়েক দিন আগে পাকিস্তানের এক বিমান হামলায় কাবুলের একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ৪০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছিল আফগান সরকার। যদিও ইসলামাবাদ দাবি করেছিল, তাদের লক্ষ্যবস্তু ছিল একটি অস্ত্রাগার, কোনো বেসামরিক স্থাপনা নয়।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে দুই দেশের সীমান্ত উত্তেজনায় এ পর্যন্ত অন্তত ৭৬ জন আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে নিহতের সংখ্যা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
টিএইচএ/
