রাজধানীর শাপলা চত্বরের ঘটনার এক যুগ পেরিয়ে অবশেষে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে ৯৩ জন শহীদ কর্মীর একটি প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। গত বছরের ৪ মে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়।
দীর্ঘ ১২ বছর পর কেন এই তালিকা প্রকাশ করা হলো? সেই প্রশ্নের জবাবে হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী সে সময়ের প্রতিকূল পরিস্থিতি ও সরকারের দমন-পীড়নের নানা চিত্র তুলে ধরেছেন। সম্প্রতি দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ২০১৩ সালের ৫ মে পরবর্তী সময়ে আলেম-উলামা ও নিহতের পরিবারগুলোর ওপর ভয়াবহ নির্যাতন ও নজরদারি চালানোর কারণে তালিকা প্রণয়ন সম্ভব হয়নি।
মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী জানান, শাপলা চত্বরের ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সরকারের পক্ষ হয়ে অত্যন্ত কঠোর ভূমিকা পালন করেছিল। নিহতদের পরিবারগুলোকে নানাভাবে হয়রানি ও চাপের মুখে রাখা হয়। অনেক ক্ষেত্রে নিহতদের জানাজা পড়ার সুযোগ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি এবং মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে জানাজা আদায়ে বাধা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের সহায়তায় বিকল্প স্থানে গোপনে জানাজা সম্পন্ন করতে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, মরদেহ দাফনের সময়ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি ছিল এবং অত্যন্ত সীমিত সংখ্যক স্বজনের উপস্থিতিতে দাফন সম্পন্ন করতে হয়েছে। তার অভিযোগ, সে সময় তদন্ত কমিটি গঠনের চেষ্টা করা হলেও হুমকি-ধমকির মুখে তা ব্যাহত হয় এবং পুরো বিষয়টি ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল।
মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর কর্মকর্তাদের শাস্তির প্রসঙ্গ টেনে হেফাজত নেতা বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একটি সংস্থা হয়েও যদি তাদের সাজা পেতে হয়, তবে হেফাজতের মতো সংগঠনের জন্য সেই পরিস্থিতিতে তালিকা করা আরও কঠিন ছিল। তিনি দাবি করেন, সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শত শত মামলা ও হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করার ফলে তালিকা প্রণয়নের কাজ থমকে গিয়েছিল। বর্তমানে প্রকাশিত তালিকায় ৯৩ জনের নাম থাকলেও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। অনেক পরিবার এখনো ভয়ে তথ্য দিতে চাচ্ছেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, অজ্ঞাতপরিচয় অনেক লাশ দাফনের তথ্য বিভিন্ন সময়ে উঠে এসেছে, যা নিয়ে অনুসন্ধান এখনো চলমান।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে ১৩ দফা দাবিতে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে এক রক্তক্ষয়ী অভিযান পরিচালিত হয়। সেই ঘটনার বিচার চেয়ে গত বছরের ২৬ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন মাওলানা আজিজুল হক। হেফাজত নেতার দাবি, প্রকাশিত তালিকাটি এখনো পরিপূর্ণ নয় এবং পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে ভবিষ্যতে আরও অনেক সত্য ও তথ্য দেশবাসীর সামনে উন্মোচিত হবে।
টিএইচএ/
