গরু চোর সন্দেহে বাবা-মাকে তুলে নিয়ে সালিশে মারধর: অপমান সইতে না পেরে মায়ের আত্মহত্যা

by Abid

এমরান হোসেন (জামালপুর প্রতিনিধি): জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের খলিলহাটা গ্রামে গরু চোর সন্দেহে ছেলেকে না পেয়ে তার বৃদ্ধ বাবা-মাকে তুলে নিয়ে সালিশে পৈশাচিক মারধর ও হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে। এই চরম অপমান ও শারীরিক নির্যাতন সইতে না পেরে বাড়ি ফিরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন মা জোসনা বানু।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান। শুক্রবার মধ্যরাতে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, খলিলহাটা এলাকার আজিজুর রহমানের ছেলে গোলাম কিবরিয়া মুক্তা (২৮) ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নায়েব আলীর ছেলে মো. হৃদয় (১৯)।

বিজ্ঞাপন
banner

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে খলিলহাটা গ্রামের পুলিশ সদস্য নায়েব আলীর বাড়িতে চুরির চেষ্টার ঘটনা ঘটে। পরে রাত ৩টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন অভিযুক্ত নায়েব আলীকে সঙ্গে নিয়ে চোর সন্দেহে একই গ্রামের সুজন মিয়াকে ধরতে তার বাড়িতে হানা দেয়। এ সময় সুজনকে না পেয়ে তার বাবা সুরুজ আলী ও মা জোসনা বানুকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। একই সময় তোতা মিয়া ও সোহেল রানাসহ আরও কয়েকটি পরিবারের সদস্যদের ডেকে এনে সালিশ বসানো হয়। রাত থেকে পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত চলা ওই অবৈধ সালিশে সুরুজ আলী ও জোসনা বানুসহ তিনটি পরিবারের সদস্যদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন ও মানসিকভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ ওঠে। এই অপমান ও প্রকাশ্য দিবালোকে শারীরিক লাঞ্ছনা সহ্য করতে না পেরে সালিশ থেকে বাড়ি ফিরে কান্নায় ভেঙে পড়েন জোসনা বানু এবং একপর্যায়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

মর্মান্তিক এই ঘটনার পর নিহতের ছেলে সজিব বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬ জনের বিরুদ্ধে জামালপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। নিহতের ছেলের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিসহ পলাতক অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং স্থানীয়রা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222