ইসরাইলি কারাগারে বন্দি থাকা ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথ প্রশস্ত করে দেশটির পার্লামেন্ট নেসেটে বিল পাস করা হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যায় নেসেটের অধিবেশনে ভোটাভুটির মাধ্যমে এই বিলটি অনুমোদন পায়। নতুন এই আইনটি কার্যকর হলে দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময় পর ইসরাইলে আবারও রাষ্ট্রীয়ভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টের বরাতে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্বয়ং অধিবেশনে উপস্থিত থেকে বিলটির পক্ষে নিজের প্রকাশ্য সমর্থন জানান এবং ভোট প্রদান করেন।
এই বিলের অনুমোদন দেশটির কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক শিবিরের জন্য একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এবং তার রাজনৈতিক দল ‘ওৎজমা ইহুদিত’-এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বিলটি নেসেটে উত্থাপিত হয়েছিল। আইনটির সমর্থকদের দাবি, এটি ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বা তাদের ভাষায় সন্ত্রাস দমনে একটি কঠোর প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ইসরাইলি পরিবারগুলোর জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে। তবে এই বিল নিয়ে খোদ ইসরাইলি পার্লামেন্টেই তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, এটি কোনো কার্যকরী আইন নয়, বরং নিছক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নেওয়া একটি পদক্ষেপ।
নতুন এই আইনের বিধান অনুযায়ী, অধিকৃত পশ্চিম তীরের যেসব ফিলিস্তিনি হত্যাকাণ্ডের দায়ে ইসরাইলি সামরিক আদালতে দোষী সাব্যস্ত হবেন, তাদের ক্ষেত্রে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হবে একটি স্বাভাবিক সাজা। এ ছাড়াও আইনটি ইসরাইলি আদালতকে নিজস্ব নাগরিকদের ওপরও নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড আরোপের ক্ষমতা প্রদান করে।
উল্লেখ্য যে, এই আইনটি পূর্ববর্তী কোনো ঘটনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না; এটি কেবল আইন পাসের পরবর্তী সময়ে ঘটা নতুন মামলাগুলোর ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। এদিকে ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনি বিভিন্ন মানবাধিকার গোষ্ঠী এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ও মানবাধিকারের চরম অবমাননা হিসেবে অভিহিত করেছে।
টিএইচএ/
