কাবুল-ইসলামাবাদ উত্তেজনা কমাতে জাতিসংঘকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান

by Abid

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিরসনে এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে (ইউএনএসসি) অবিলম্বে ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বেশ কয়েকটি নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংস্থা।

বিদেশী এই সংস্থাগুলো এক যৌথ চিঠিতে জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে দুই দেশের সীমান্তে সংঘর্ষ তীব্রতর হয়েছে, যা বর্তমানে অন্তত ১০টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। তারা জোর দিয়ে বলেছে যে, পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আগেই উত্তেজনা প্রশমনের সুযোগ রয়েছে এবং এ লক্ষ্যে বিশ্ব সংস্থাকে দ্রুত এগিয়ে আসতে হবে।

বিজ্ঞাপন
banner

নিরাপত্তা পরিষদের কাছে পাঠানো চিঠিতে সংস্থাগুলো অত্যন্ত সম্মানের সাথে অনুরোধ জানিয়েছে যে, আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের চলমান সামরিক তৎপরতা এবং উভয় পক্ষের শত্রুতা বন্ধে যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তারা উল্লেখ করেছে যে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জাতিসংঘ সনদের সপ্তম অধ্যায়ের (Chapter VII) অধীনে অবিলম্বে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

সাবেক কূটনীতিক আজিজ মারিজ এ প্রসঙ্গে বলেন, পাকিস্তান সমস্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করে কাজ করছে, এটি জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর অজানা নয়। তবে পশ্চিমা দেশগুলোর, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রচ্ছন্ন সমর্থনের কারণে তারা নীরব থাকছে। আফগান বাহিনীর পক্ষ থেকে কঠোর জবাব না আসা পর্যন্ত পাকিস্তান এই কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাকিস্তানের সাম্প্রতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের উচিত তাদের নীরবতা ভেঙে বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করা। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইদ্রিস মোহাম্মদী বলেন, বিভিন্ন দেশের মধ্যে সম্ভাব্য বা চলমান সংঘর্ষ প্রতিরোধ করা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর, বিশেষ করে উনামা (UNAMA) এবং নিরাপত্তা পরিষদের প্রাথমিক দায়িত্ব। অপর এক বিশ্লেষক হেয়াতুল্লাহ আহমদী মনে করেন, এ ধরনের সম্মিলিত কণ্ঠস্বর এবং প্রতিবাদ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে একটি নির্দিষ্ট রেজোলিউশন গ্রহণ বা বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরিতে চাপ সৃষ্টি করবে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৩ মার্চ একদল রাজনৈতিক বিশ্লেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং মিডিয়া কর্মী কাবুলে অবস্থিত জাতিসংঘ সহায়তা মিশন বা উনামা-এর কার্যালয়ের সামনে এক প্রতিবাদলিপি পাঠ করেন এবং তা জমা দেন। ওই চিঠিতে বিভিন্ন প্রদেশে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং ইসলামি সহযোগিতা সংস্থাকে (ওআইসি) এই হামলার মূল হোতাদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়।

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222