জ্বালানি-গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, যা বলছেন ইসলামি দলের নেতারা

by hsnalmahmud@gmail.com

আতাউল্লাহ নাবহান মামদুহ >>

বিশ্ববাজারে অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বড় পরিসরে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিজেল, অকটেন, পেট্রল ও কেরোসিনসহ সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম এক ধাক্কায় ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নতুন করে চাপ বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
banner

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, শনিবার (১৮ এপ্রিল) জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নতুন দাম রোববার (১৯ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে কার্যকর হয়েছে।

বিশেষ করে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ রুট হরমুজ প্রণালী অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও।

এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে দীর্ঘ লাইন, ভিড় এবং সংকটের অভিযোগ ওঠে। সরকার বলছে, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ৫ লাখ লিটারেরও বেশি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে দাম বাড়ার পরদিনই বাস ও লঞ্চ ভাড়া বৃদ্ধির আবেদন করেছে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। ফলে পরিবহন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি নিত্যপণ্যের বাজারেও চাপ বাড়ার আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ।

নতুন জ্বালানি তেলের দাম

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ভোক্তা পর্যায়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে—

  • ডিজেল: ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা
  • অকটেন: ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪০ টাকা
  • পেট্রল: ১১৬ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা
  • কেরোসিন: ১১২ টাকা থেকে বেড়ে ১৩০ টাকা

এতে প্রতি লিটার ডিজেল ১৫ টাকা, অকটেন ২০ টাকা, পেট্রল ১৯ টাকা এবং কেরোসিন ১৮ টাকা বেড়েছে।

বাস ও লঞ্চ ভাড়া বৃদ্ধির আবেদন

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পরদিনই বাস মালিক সমিতি বাস ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় বাস ভাড়া নির্ধারণ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

পরিবহন মালিকদের খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী—

ঢাকা, চট্টগ্রামসহ মহানগরীতে বাস ভাড়া ৬৪ শতাংশ বাড়ানোর আলাপ তোলা হবে
দূরপাল্লার বাসে ৩৭ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে

অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ নৌপথে যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া ৩৬ থেকে ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল যাত্রী পরিবহন (যাপ) সংস্থা।

সংস্থাটি জানিয়েছে, ১০০ কিলোমিটারের কম ও বেশি উভয় দূরত্বে কিলোমিটারপ্রতি ১ টাকা করে ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব ইতোমধ্যেই বিআইডব্লিউটিএ-তে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া সর্বনিম্ন যাত্রীভাড়া ২৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা করার প্রস্তাবও রয়েছে।

এলপিজির দাম বৃদ্ধি ‘জনস্বার্থবিরোধী’: জামায়াত

ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।

রোববার (১৯ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ১৯ এপ্রিল বিকেলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ২১২ টাকা বৃদ্ধি করে ১,৯৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে। এ ধরনের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২ এপ্রিল চলতি মাসের জন্য এলপিজির দাম ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১,৭২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর দুই দফা মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলবে। পাশাপাশি সকল প্রকার জ্বালানি তেলের দামও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা নাভিশ্বাস হয়ে পড়বে। এ ধরনের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তে আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতির চাপে সাধারণ মানুষ যখন ইতোমধ্যে দিশেহারা, তখন এ ধরনের মূল্যবৃদ্ধি তাদের জীবনযাত্রাকে আরও কষ্টকর করে তুলবে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এলপিজি একটি অপরিহার্য জ্বালানি। এ অবস্থায় মূল্যবৃদ্ধির ফলে রান্নার ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যা সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেবে। আমরা মনে করি, এটি একটি জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত।

তিনি এ সিদ্ধান্তকে জনস্বার্থবিরোধী উল্লেখ করে অবিলম্বে তা পুনর্বিবেচনা ও প্রত্যাহারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।

ইসলামী আন্দোলনের আমীর যা বললেন

দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে নিত্যপণ্যের দাম, যোগাযোগ খরচসহ জীবনযাত্রার প্রতিটি খরচ জড়িত।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘তেলের দাম বৃদ্ধি হলে সকল কিছুর দাম বাড়ে। যার সরাসরি প্রভাব পড়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ওপরে; যাদের আয় সীমিত। এর মাধ্যমে জীবনযাত্রা আরও দুর্বিসহ হয়ে উঠবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বৈশ্বিক সমস্যা মোকাবিলায় তেলের দামবৃদ্ধি করে সমস্যার বোঝা জনগণের ওপরে চাপানো একটি সহজ ও বহুল প্রচলিত পন্থা। আমরা সরকারের প্রতি আহবান করবো, বৈশ্বিক সমস্যার সমাধানে নিম্ন ও মধ্যবিত্তকে বলির পাঠা বানাবেন না বরং বিকল্প উপায় খুঁজে বের করার প্রতি মনোযোগী হন।’

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, তেলের দাম লিটার প্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় চাপ তৈরি করবে। পাশাপাশি তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা এই সুযোগে আনুপাতিক হারে আরও বেশি মূল্যবৃদ্ধি করে জনজীবনকে কঠিন করে তুলবে।

তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘প্রশাসনের সকল শক্তি ব্যবহার করে প্রতিটি ক্ষেত্রে নজরদারি করুন। কেউ যেনো তেলের মূল্যবৃদ্ধির অসৎ ব্যবহার করতে না পারে।’

খেলাফত মজলিস আমির ও মহাসচিবের যৌথ বিবৃতি

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে খেলাফত মজলিস। দলটির আমীর মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশের ইতিহাসে জ্বালানি তেলের দাম এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে মূল্যস্ফীতি বাড়বে এবং জনজীবনে নতুন করে দুর্ভোগ ডেকে আনবে।’

তারা বলেন, সরকার যুদ্ধ ও বিশ্ববাজারের দামের কথা উল্লেখ করলেও প্রশ্ন থেকে যায়, ‘তাহলে ৫০ দিন পর যুদ্ধ যখন শেষ পর্যায়ে তখন কেন এই মূল্য বৃদ্ধি? কাদের চাপে সরকার জনগণকে দুর্বিসহ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে যাচ্ছে?’

তারা আরও অভিযোগ করেন, পাম্পে পর্যাপ্ত তেল না পাওয়া এবং দীর্ঘ লাইন থাকা সত্ত্বেও সরকার ঘাটতি নেই বলে দাবি করছে। এতে সাধারণ মানুষ জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে তারা মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে অবিলম্বে দাম কমানো এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিবের প্রতিবাদ

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

রোববার (১৯ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের পাশাপাশি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি দেশের সাধারণ মানুষের ওপর নতুন করে অসহনীয় চাপ সৃষ্টি করবে। এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, সরকার জনগণের বাস্তব জীবনযাত্রার সংকট ও দুর্ভোগের প্রতি সম্পূর্ণ উদাসীন।’

তিনি দাবি করেন, এই সিদ্ধান্ত কোনো বিচ্ছিন্ন অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নয়; বরং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দুর্বল নীতিনির্ধারণ এবং বাজারে সক্রিয় সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার প্রতিফলন।

তিনি আরও বলেন, ‘সারা দেশে গত এক সপ্তাহ ধরে পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়েছে। অনেক স্থানে এই সারি কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে ১০-১২ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।’

সরকার একদিকে জ্বালানি সংকট নেই বলে দাবি করলেও বাস্তবে পাম্পে অপ্রতুলতার কারণে জনগণের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘বারবার মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে সংকটের দায় জনগণের ওপর চাপানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য।’

তিনি বলেন, জ্বালানি ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি পরিবহন, কৃষি, শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে নিত্যপণ্যের মূল্য আরও বাড়বে এবং নিম্নআয়ের মানুষ ও মধ্যবিত্ত পরিবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে বলেন, ‘অবিলম্বে জ্বালানি ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে, বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও টেকসই জ্বালানি নীতিমালা প্রণয়ন করে তা জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে হবে।’

সরকার কী বলছে

সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় সরকার বাধ্য হয়েই দাম সমন্বয় করেছে।

রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “সারাবিশ্ব তাদের তেলের দাম অ্যাডজাস্ট করেছে। এমনকি আমেরিকাও ৫ ডলার বাড়িয়ে দিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, ‘যুদ্ধ লাগার পর থেকে বাংলাদেশে ইমপোর্ট করে যে স্টক তৈরি করেছি, তার যে দাম পড়েছে, সে দামের থেকে নিচেই আমরা এখন প্রাইস অ্যাডজাস্টমেন্ট করছি।’

মন্ত্রী দাবি করেন, ‘এটা করতে বাধ্য হয়েছি আমরা। কারণ এটা বৈদেশিক মুদ্রা দিয়ে কিনতে হয় এবং আমরা যেন সহনীয় লেভেলে থাকতে পারি, সেই ব্যবস্থা করেছি।’

ভর্তুকি বিষয়ে তিনি বলেন, ভর্তুকি এখনো রয়েছে, তবে সঠিক হিসাব জানতে হলে মন্ত্রণালয় থেকে বিস্তারিত হিসাব নিতে হবে।

সার্বিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব দ্রুতই পরিবহন ব্যয়, খাদ্যপণ্য পরিবহন, কৃষি উৎপাদন, শিল্প খাত এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচে পড়তে পারে। এতে বাজারে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দলগুলোর পক্ষ থেকেও সরকারকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

হাআমা/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222