আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে নতুন বাজার সন্ধান শুরু করেছে আফগানিস্তান। এর অংশ হিসেবে উজবেকিস্তানে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক শিল্প প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন আফগানিস্তানের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী নুরউদ্দিন আজিজি। সফরকালে তিনি বেলারুশ থেকে তেল আমদানির সম্ভাবনা এবং আফগানিস্তানে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
আফগানিস্তানের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে তুলা, কয়লা, ওষুধ এবং কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন খাতের ৬০টিরও বেশি আফগান কোম্পানি অংশ নেয়। প্রদর্শনীর সাইডলাইনে বেলারুশের শিল্পমন্ত্রী আন্দ্রেই কুজনেতসভের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেন নুরউদ্দিন আজিজি। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং বেলারুশ থেকে তেল আমদানির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া আফগানিস্তানের ওষুধ শিল্পসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে বেলারুশের বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানান আফগান মন্ত্রী।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক এই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ আফগান অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। বিশ্লেষক মীর শাকীব মীর জানান, এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম আফগান পণ্য বিশ্ববাজারে পরিচিত করার পাশাপাশি বিদেশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের সুযোগ তৈরি করে। তবে আরেক অর্থনীতিবিদ আব্দুল গাফফার নিজামী মনে করেন, উজবেকিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তানের বাণিজ্যিক ভারসাম্য রক্ষা করা জরুরি। বর্তমানে উজবেকিস্তান থেকে আমদানির পরিমাণ বেশি হলেও রপ্তানি অনেক কম। আফগানিস্তানের কাঁচামাল উজবেকিস্তানের কারখানাগুলোতে সরবরাহের মাধ্যমে রপ্তানি আয় বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
আফগান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্যিক জটিলতা তৈরির পর থেকেই কাবুল সরকার মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। সম্প্রতি কাবুলে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আগামী ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে আফগানিস্তানের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তাসখন্দ সফর ও বেলারুশের সঙ্গে তেলের বাণিজ্য নিয়ে এই আলোচনা সেই লক্ষ্যপূরণেরই একটি প্রাথমিক ধাপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তথ্যসূত্য: টোলো নিউজ
টিএইচএ/
