সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গি ইস্যুকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করে বিশ্বাসযোগ্য ও বস্তুনিষ্ঠ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। তিনি বলেন, অতীতে বিশেষ করে ফ্যাসিবাদী আমলে ‘জঙ্গি’ ইস্যুকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যবহারের আধিক্যের কারণে জনমনে নানা সন্দেহ ও সংশয় জন্ম নিয়েছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
বিবৃতিতে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, দেশে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা রয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে যে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে জনগণের স্বচ্ছ ধারণা থাকা প্রয়োজন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সিটিটিসি ইউনিটের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন গতকাল জানিয়েছেন যে, সারাদেশে জঙ্গি হামলার তথ্য পাওয়ার পর সিটিটিসি ও সাইবার ইন্টেলিজেন্সসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। এর মাধ্যমে প্রতীয়মান হয় যে, বাংলাদেশ পুলিশের কাছে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আস্থা রাখতে চাই, তবে জঙ্গি হামলা সংক্রান্ত তদন্ত ও ব্যবস্থাপনায় পূর্ণ বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে।
ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র অভিযোগ করেন, বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে ভিন্নমত দমন করার জন্য জঙ্গি ইস্যুকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই সময়ে এই ইস্যুকে সামনে রেখে নিরীহ বহু আলেম-উলামার ওপর অন্যায্য নিপীড়ন চালানো হয়েছে। এর ফলে প্রকৃত অপরাধীরা আড়ালে থেকে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে, অন্যদিকে সাধারণ আলেম-উলামা ও ইসলামপন্থীরা জুলুমের শিকার হয়েছে। এমন কর্মকাণ্ডের কারণেই সাধারণ মানুষের কাছে এই জাতীয় অভিযানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল।
তিনি পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ‘জঙ্গি’ সংক্রান্ত সব পদক্ষেপ হতে হবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমুক্ত, নির্মোহ ও তথ্যভিত্তিক। কোনোভাবেই যেন এই ইস্যুকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কারো ওপর জুলুম করা না হয়। প্রকৃত সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
টিএইচএ/
