বশির আহম্মদ মোল্লা (নরসিংদী প্রতিনিধি): নরসিংদীর রায়পুরায় এক মাদরাসা শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনায় সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টার অভিযোগ তুলে জেলা বিএনপির নেতা ও দুইবারের সাবেক সফল পৌর মেয়র হাজী আ. কুদ্দুস মিয়াকে জড়িয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বিকেলে রায়পুরা পৌর এলাকায় আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. ফাইজুর রহমান দাবি করেন, একটি কুচক্রী মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এবং আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে হাজী আ. কুদ্দুস মিয়ার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।
সংবাদ সম্মেলনে হাজী আ. কুদ্দুস মিয়া জানান, গত ২৪ এপ্রিল তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যের সাথে একটি ফুটবল খেলায় অংশ নেওয়ার সময় হাশিমপুর জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদরাসায় উত্তেজিত জনতার ভাঙচুরের খবর পান। মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের অনুরোধে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি সেখানে উপস্থিত হন এবং প্রশাসনের সহায়তায় উত্তেজনা প্রশমিত করেন। পরে মাদরাসার এক শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে জানতে পেরে তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, এটি কোনোভাবেই সামাজিকভাবে মীমাংসার বিষয় নয়। এটি একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি সেখানে কোনো সালিশ-দরবারে অংশ নেননি বরং থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে সেখানে কোনো আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না সে বিষয়ে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে তিনি স্পষ্ট জানান।
জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. ফাইজুর রহমান বলেন, হাজী আ. কুদ্দুস একজন সৎ ও জনপ্রিয় ব্যক্তি। তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে। এলাকার মানুষ সমস্যার সমাধানের জন্য তাকে ডেকেছিল, কিন্তু অপরাধের গভীরতা বুঝে তিনি নিজেই আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো ব্যক্তি ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর উল্লেখ করে তারা প্রশাসনের কাছে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত ২৪ এপ্রিল রায়পুরা উপজেলার হাশিমপুর এলাকায় জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদরাসার ১০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগে শিক্ষক মো. জুনায়েদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে ৩ লাখ টাকায় মীমাংসার চেষ্টার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজী আ. কুদ্দুস মিয়াসহ কয়েকজন বিএনপি নেতার নাম ছড়িয়ে পড়ে। তবে তথ্য যাচাই ছাড়া এমন প্রচারণাকে ভিত্তিহীন দাবি করে দোষীদের বিচার চেয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ধর্ষণের ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
টিএইচএ/
