জাতীয় সংসদে মানুষের তৈরি আইনের পরিবর্তে কুরআনভিত্তিক আইন প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো বক্তৃতাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানকারী জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক আলী হাসান ওসামা এক ফেসবুক পোস্টে এই বিষয়ে মন্তব্য করে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় বক্তৃতা দেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মো. মুজিবুর রহমান। তিনি পরিষদে বলেন, ‘আমরা আল্লাহর আইন চাই। আপনারা আল্লাহর আইনের বিরোধিতা করবেন না বলেছেন। অতএব আসুন বাংলাদেশে মানুষের আইনের কবর রচনা করে, কুরআনের আইন প্রতিষ্ঠা করি।’
তিনি আরও বলেন, সংসদ ভবনে ‘আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও ঈমান’ লেখা আছে; তাই আইনের উৎস হওয়া উচিত আল-কুরআন। কুরআনে বর্ণিত সূরা হজের ৪১ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রক্ষমতায় যারা থাকবে, তারা নামাজ কায়েম করবে, যাকাত চালু করবে, ভালো কাজের নির্দেশ দেবে এবং মন্দ কাজ বন্ধ করবে।’
তার দাবি, দেশের ‘অধিকাংশ মানুষ’ কুরআনে বিশ্বাস করে এবং কুরআনের বিধান প্রতিষ্ঠা করাই তাদের দাবি। এ সময় তিনি সুদ, ঘুষ, মদ, জুয়া, ব্যভিচার, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির তীব্র সমালোচনা করেন।
দেশে ইসলামী আইন চালু করতে একটি ইসলামী বোর্ড গঠনের প্রস্তাব দিয়ে মুজিবুর রহমান জানান, সংসদে থাকা মাদ্রাসাপাস সদস্য ও বিভিন্ন মাজহাবের আলেমদের নিয়ে এমন একটি বোর্ড করা যেতে পারে যারা এ বিষয়ে পরামর্শ দেবে।
আলী হাসান ওসামা সম্প্রতি তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘মিথ্যাচারীরা এতদিন প্রচার করত, জামায়াত শরিয়াহ আইন চায় না; অথচ আজ কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির সংসদেই আহ্বান জানালেন, ‘আসুন, মানুষের বানানো আইন ছুঁড়ে ফেলে আল্লাহর আইন বাস্তবায়ন করি।’
জানা গেছে, গত ১৭ জানুয়ারি তিনি জামায়াতে ইসলামীতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন। বাংলাদেশ ইসলামী দাওয়াহ্ সেন্টারের চেয়ারম্যান মুফতি নুরুজ্জামান নোমানী এক ফেসবুক পোস্টে দীর্ঘ দুই বছরের মেহনত শেষে আল্লাহ তায়ালা এই যোগদান কবুল করেছেন বলে উল্লেখ করেন।
সংসদে জামায়াত নেতার বক্তব্য এবং আলী হাসান ওসামার পোস্ট ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ এটাকে রাষ্ট্রীয় আইন ও ইসলামের মধ্যে ভারসাম্যের প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ সংশোধনী আনার দাবি জানিয়েছেন। জামায়াত নেতার বক্তব্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সরকার কর্তৃক কোরআনের আইন চালু না করায় আক্ষেপ প্রকাশও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
এদিকে জামায়াত নায়েবে আমিরের এমন অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন দলটির সমর্থক ও ঘনিষ্ঠ কিছু ইসলামি ব্যক্তিত্ব।
হাআমা/
