যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বাণিজ্যচুক্তিকে ‘অসম ও দেশবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের কান্ট্রি অফিস খোলার চুক্তিও বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব দাবি তুলে ধরেন দলের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক।
আরো উপস্থিত ছিলেন দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, মাওলানা ড. শুয়াইব আহমদ, মাওলানা মকবুল হোসাইন কাসেমী, মাওলানা জিয়াউল হক কাসেমী, মাওলানা মাওলানা জয়নুল আবেদীন, জয়নুল আবেদীন, মাওলানা তালহা ইসলাম,মাওলানা লোকমান মাযহারী, মুফতি নাছির উদ্দিন খান,মুফতি আফজাল হোসাইন রাহমানী, মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, মুফতি জাবের কাসেমী, মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান, মাওলানা কামাল উদ্দিন দায়েমী, মুফতি গোলাম মাওলা, মাওলানা রাশেদ ইলিয়াস, মাওলানা বশিরুল হাসান খাদিমানী, মাওলানা হাসান আহমদ, মাওলানা এখলাছুর রহমান রিয়াদ, মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, মাওলানা ইসহাক কামাল ও রিদওয়ান মাযহারী প্রমুখ।
মহাসচিব বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্যচুক্তিতে বাংলাদেশকে ১৩১টি শর্ত মানতে হলেও যুক্তরাষ্ট্রকে মানতে হবে মাত্র ৬টি শর্ত। ফলে এটি বাংলাদেশের জন্য লাভজনক নয়, বরং ‘গোলামির চুক্তি’।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র ৭২ ঘণ্টা আগে গোপনে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায় জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। দলটির অভিযোগ, চুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিমান, এলএনজি, কৃষিপণ্য ও সামরিক সরঞ্জাম কিনতে বাধ্য করা হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি ও স্বাধীন নীতিনির্ধারণী সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
জমিয়তের নেতারা আরও অভিযোগ করেন, চুক্তির পরিশিষ্টে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শূকরজাত খাদ্যপণ্য বাংলাদেশে আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে, যা দেশের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও খাদ্যনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়েও সমালোচনা করা হয়। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, জুলাই সনদ ও সংবিধান—দুটিই রাষ্ট্রের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। সংবিধানে “বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম” ও “আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস” পুনর্বহালের দাবিও জানানো হয়।
এ সময় ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করে তাদের মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।
পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম নির্যাতনের অভিযোগ তুলে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ভারতের বিজেপি সরকারের সমালোচনা করে। দলটি দাবি করে, পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের বাড়িঘর, মসজিদ ও মাদ্রাসায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে দলটি সরকারের কাছে ১০ দফা দাবি পেশ করে। এর মধ্যে রয়েছে—
- অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সম্পাদিত সব চুক্তি প্রকাশ ও বিতর্কিত চুক্তি বাতিল,
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও জ্বালানি সংকট নিরসন, - বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা,
- জুলাই হত্যা, পিলখানা ও শাপলা ট্রাজেডির বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা,
- দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ,
- শিক্ষায় ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এবং কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সরকারি চাকরির সুযোগ বৃদ্ধি।
এছাড়া আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও চামড়া শিল্প রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেওয়া হয়, যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্যচুক্তি ও পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদে আগামী শুক্রবার ১৫ মে বাদ জুমা দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে।
হাআমা/
