শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে (ঢাবি) প্রকৃত অর্থে ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, জিয়াউর রহমান কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়নই করেননি, বরং শিক্ষকদের মানোন্নয়নেও যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। শিক্ষকদের বিদেশে ছুটি কাটানোর দীর্ঘদিনের প্রথা পরিবর্তন করে তিনি দেশেই পাঠদানে মনোনিবেশ করার ব্যবস্থা করেছিলেন।
দেশের উচ্চশিক্ষার বিস্তারে বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথা স্মরণ করে ড. মিলন বলেন:
১৯৯২ সালের প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি অ্যাক্টের মাধ্যমে দেশে বেসরকারি উচ্চশিক্ষার দুয়ার খুলে দিয়েছিলেন দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া।
ডক্টর ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বে সেই সময়েই দেশে ১১৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও ওপেন ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
বর্তমানে দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৫৭টিতে দাঁড়িয়েছে।
তবে উচ্চশিক্ষার সংখ্যাগত বৃদ্ধির পাশাপাশি গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমরা সংখ্যায় এগিয়ে গেলেও গুণগত মানে (কোয়ালিটি) কতটা অর্জন করতে পেরেছি, তা এখন গভীরভাবে ভাবার সময় এসেছে”।
শিক্ষামন্ত্রী জানান যে, অতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালীন শিক্ষাব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিলেন। পরবর্তী সময়ে বেগম খালেদা জিয়াও এই খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেন। বর্তমান সরকারও সেই ধারাবাহিকতায় শিক্ষাকে প্রধান গুরুত্ব দিচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী দিনে শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইউজিসি আয়োজিত এই কর্মশালার মূল বিষয় ছিল ‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষের রূপরেখা’। ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। এতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক, গবেষক, কূটনীতিক এবং শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
হাআমা/
