২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনে বিএনপির ভূমিকা কী ছিল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, সেদিন বিএনপির উচিত ছিল হেফাজতের সেই ন্যায়সংগত আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহণ করা। মঙ্গলবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স (আইডিইবি) মিলনায়তনে এনসিপি সমর্থিত সংগঠন ন্যাশনাল ওলামা এলায়েন্সের উদ্যোগে ‘শাপলা গণহত্যা; বিচারহীনতার এক যুগ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বিগত এক যুগ ধরে শাপলা চত্বরের সেই নৃশংস গণহত্যাকে আড়াল করতে নানা অপকৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। সেদিনের সেই ঘটনাকে হেফাজতের তাণ্ডব বলে অপপ্রচার চালানো হয়েছে এবং আলেম-ওলামাদের সন্ত্রাসী ও জঙ্গি হিসেবে বিশ্ববাসীর কাছে উপস্থাপন করার হীন চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, শাপলা চত্বরের গণহত্যার সঠিক বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা যায়নি বলেই ২০২৪ সালে আরেকটি বৃহত্তর গণহত্যার দুঃসাহস দেখিয়েছে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী। মূলত পূর্বের বিচারহীনতার সংস্কৃতিই চব্বিশের ছাত্র-জনতার ওপর চালানো গণহত্যার প্রেক্ষাপট তৈরি করে দিয়েছে। এই উভয় গণহত্যার পেছনে যারা নেপথ্যে থেকে ভূমিকা রেখেছে এবং প্রেক্ষাপট তৈরিতে মদদ দিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করা জরুরি।
সীমান্ত পরিস্থিতি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রতিবেশী দেশের সাথে সম্পর্কের নামে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া এবং প্রতিনিয়ত নিরপরাধ মানুষ হত্যা করে প্রকৃত বন্ধুত্ব কখনো সম্ভব নয়। এটি কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের সাথে বন্ধুত্বের লক্ষণ হতে পারে না। বাংলাদেশের মানুষ আত্মমর্যাদাশীল এবং তারা একদিন এই অন্যায় ও অন্যায্য কাঁটাতারের বেড়া উপড়ে ফেলবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল ওলামা এলায়েন্সের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থেকে ২০১৩ সালের ৫ মের বিভীষিকাময় পরিস্থিতির স্মৃতিচারণ করেন এবং শাপলা চত্বরে নিহতদের স্মরণে বিশেষ তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
টিএইচএ/
