ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কি ফের সংঘাত শুরু হতে চলেছে? যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন হুঙ্কারে অনেকে সেই ইঙ্গিত দেখতে পাচ্ছেন। চীন সফর সেরে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পরেই ট্রাম্প জানিয়ে দিলেন, ইরানের খুব খারাপ সময় আসতে চলেছে। সমঝোতা না-করলে তাদের বিপদে পড়তে হবে। এমনকি, সমঝোতার ক্ষেত্রে তেহরানের স্বার্থের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
চীন থেকে দেশে ফেরার পর ফ্রান্সের চ্যানেল বিএফএমটিভি-কে টেলিফোনে একটি সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ট্রাম্প। সেখানেই ইরান প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা কি আসন্ন?
জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমার কোনও ধারণা নেই। তবে যদি ওরা সমঝোতা না করে, ওদের খুব খারাপ সময় দেখতে হবে।’’ এর সঙ্গেই ট্রাম্প যোগ করেন, ‘‘সমঝোতা-চুক্তি করার ক্ষেত্রে ইরানেরও স্বার্থ রয়েছে।’’ কী স্বার্থ, তা অবশ্য খোলসা করেননি। মনে করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ফের হামলা শুরু করলে তেহরানের আর্থিক এবং সামরিক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনাকেই এ ক্ষেত্রে তিনি ইঙ্গিত করেছেন।
চীনে গিয়ে সে দেশের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দেখা করেছেন ট্রাম্প। তাদের মধ্যে ইরান এবং হরমুজ় প্রণালী নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে সমস্যার কোনও সমাধানসূত্র বার করা যায়নি বলেই খবর।
কৌশলগত দিক থেকে ইরানের সহযোগী চিন। তবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে চায় বেজিংও। তাদের পণ্য পরিবহণেও হরমুজ় অন্যতম ভরসা।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানকে এ বিষয়ে কোনও ভাবে চাপ দিক চীন— জিনপিংয়ের কাছে এমন আবদার তিনি করেননি। তবে কী আলোচনা হয়েছে দু’পক্ষের, তা বিশদে বলতেও রাজি হননি। চীন এ বিষয়ে একেবারেই মুখ খোলেনি। সে দেশ থেকে ফেরার পথে ট্রাম্প ফের ইরান নিয়ে এক বার অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তার দাবি, ইরান সম্প্রতি যে সমঝোতার প্রস্তাবটি তাঁকে পাঠিয়েছিল, প্রথম লাইন পড়ার পরই তা ট্রাম্প ছুড়ে ফেলে দিয়েছেন। কারণ, সেখানে যা বলা হয়েছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়।
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের সমঝোতার বিষয়ে কোনও অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। অন্য দিকে, পশ্চিম এশিয়ায় ফের হামলার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে মার্কিন এবং ইসরায়েলি বাহিনী। ওয়াশিংটন থেকে সবুজ সঙ্কেত মিললেই ফের শুরু হয়ে যেতে পারে গোলাবর্ষণ। পেন্টাগন সূত্রে খবর, যুদ্ধ আবার শুরু হবে ধরে নিয়েই প্রস্তুতি সেরে রাখা হয়েছে।
গত মাসে ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষবিরতির কথা ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প। তবে সমঝোতা নিয়ে ইরান দ্বিধাগ্রস্ত। সে দেশের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছেন, যুদ্ধবিরতি এবং সমঝোতার বিষয়ে পরস্পরবিরোধী ইঙ্গিত দিচ্ছে ওয়াশিংটন। তারা বিষয়টিকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, তা নিয়েই ইরানি নেতৃত্বের সংশয় রয়েছে, জানিয়েছেন আরাগচি। সূত্র: আনন্দবাজার
হাআমা/
