নিজস্ব প্রতিবেদক : বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ ব্যাক করেনি। তারা ছিলই। ব্যাক করেছে তাদের দম্ভ, মিথ্যাচার আর মানুষকে বিভ্রান্ত করার দুঃসাহস।’
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ দেশের রাজনীতিতে ‘ফিরে এসেছে’ বলে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম মন্তব্য করলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল ঠিক উল্টোটা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ব্যাক করেনি, তারা ছিলই।’
বুধবার (২০ মে) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এমন মন্তব্য করেন।
মঙ্গলবার কিছু সময়ের ব্যবধানে ‘আওয়ামী লীগের ফেরা’ নিয়ে ফেসবুকে দুটি পোস্ট দেন মাহফুজ আলম। সেখানে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ কার্যত বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরে এসেছে বলে মনে করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা। এ বিষয়ে কিছু আভাসও দেন তিনি।
প্রথম পোস্টে মাহফুজ আলম প্রশ্ন রাখেন, ‘আওয়ামী লীগ ফিরে এসেছে, দেখো নাই?’ ওই পোস্টে তিনি লেখেন, ‘লীগ রাজনৈতিক দলের আগে একটা ধর্মতত্ত্ব, সে ধর্মতত্ত্বে ইমান আবার ফেরত এসেছে।’ কীভাবে ফিরল, সে ‘গল্পই’ তুলে ধরার কথা বলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের এই উপদেষ্টা।
তিনি লেখেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন ২৪ কে ৭১-এর বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছিল স্বাধীনতার বিরুদ্ধের শক্তি। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন থেকে ডানপন্থীদের উত্থানের জন্য অন্তরীণ সরকারের লোকজন কাজ করা শুরু করেছে। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন আইনের শাসনের বদলে মবের শাসনে আনন্দ পেয়েছিল গত ১৭ বছরের মজলুমগণ।’
তিনি আরও লেখেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন থেকে উগ্রবাদীরা মাজারে হামলা করেছে, মসজিদ থেকে ভিন্নমতাবলম্বীদের বের করে দিয়েছে। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন হিন্দুদের উপর নিপীড়ন নিয়ে মজলুমগণ চুপ ছিল। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন সেক্যুলার মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষজন এ দেশে সরকার প্রযোজিত ডানপন্থার উত্থানে ভয় পেয়েছিল।’
এ ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে ওই সরকারে উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করা মাহফুজ আলম লেখেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন ব্যবস্থা বিলোপের বদলে ন্যূনতম সংস্কার ও ঐকমত্য কমিশন নাম দিয়ে জনগণকে বিচ্ছিন্ন এবং হতাশ করা হলো। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন থেকে বিএনপি ও *অন্তরিণ সরকারের বিরুদ্ধে গেল আর বিএনপি ও* ঠেকাতে জামায়াতকে কোলে নিল অন্তরিণ।’
তিনি আরও লেখেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন ছাত্ররা বিপ্লবী সংগঠনে রূপ না নিয়ে লুম্পেন চরিত্রের ক্লাব আর মবে রূপ নিয়েছিল। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন মিডিয়া আর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের উপর হামলা প্রযোজিত হলো। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন অন্তরিণ সরকার পলিটিক্যাল থেকে আমলাতান্ত্রিক হলো এবং আমলানির্ভর কিচেন ক্যাবিনেট থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া শুরু হলো। যে কিচেন ক্যাবিনেটের অধিকাংশ লোকই ছিল জামায়াত-বিএনপি বা লীগের ছুপা দালাল। যাদের কাছে জুলাই মানে ছিল, নিজেদের পরিবার, প্রজন্ম আর প্রতিষ্ঠানের স্বার্থরক্ষা।’
মাহফুজ আলম লেখেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে গণতন্ত্রের বদলে সংঘতন্ত্র জয়ী হল। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন নতুন মিডিয়া অনুমোদনে বাধা দেওয়ার জন্য একজোট হইসিল কিচেন ক্যাবিনেট। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন জুলাই ঘোষণাপত্র কিংবা সনদের প্রক্রিয়া তুলে দেয়া হইসিল আমলাতন্ত্র আর ভেস্টেড ইন্টারেস্ট গ্রুপের হাতে। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন বাম-শাহবাগী পিটাইলে আনন্দ পেয়েছিল মজলুমগণ।’
তিনি লেখেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন এদেশে কাওয়ালি/ইনকিলাবি কালচারের মতন রিগ্রেসিভ কালচার–ব্যবস্থা দিয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদ মোকাবেলার মহারম্ভ হয়েছিল। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন নির্বাচনি বাঁটোয়ারার মাধ্যমে সংস্কার ও বিচারকে কম্প্রোমাইজ করা হলো অ্যান্ড বিএনপি-জামায়াতের বার্গেইনিং টুল বানানো হলো।’
তিনি আরও লেখেন, ‘লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন কমিশন, ট্রাইব্যুনাল, বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদিকে একটি আদর্শের লোকদের মাধ্যমে ক্ষমতারোহণের বার্গেইনিং টুলে পরিণত করা হলো। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন কালচারালি-ইন্টেলেকচুয়ালি যারা জুলাইয়ে আমাদের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল, তাদের বাদ দিয়ে জিরো কন্ট্রিবিউশন গুপ্তদের ক্ষমতায়িত করা হলো।’
এই তালিকা আরও বাড়বে বলে পোস্টের শেষাংশে উল্লেখ করেন মাহফুজ আলম।
প্রথম স্ট্যাটাসের পর ফেসবুকে আলোচনা শুরু হলে পাল্টা আরেকটি স্ট্যাটাস দেন মাহফুজ। সেখানে যারা আগের পোস্টটিকে একটি রাজনৈতিক পর্যালোচনা হিসেবে দেখছেন, তাদের জন্য কিছু কাজের তালিকা তুলে ধরেন।
