ভারত বিধায়কের বিরুদ্ধে থানায় এসে কেন্দ্রীয় জমিয়তে উলামা হিন্দের প্রতিবাদ

by Masudul Kadir

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: এমএলএ কর্ণাইল সিং এর উস্কানিমূলক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে জমিয়ত উলেমা-ই-হিন্দের প্রতিনিধিদল রানীবাগ থানার এসিপির সঙ্গে সাক্ষা‍‍ত করেছেন।
জমিয়ত উলেমা-ই-হিন্দের চেয়ারম্যান মাওলানা মাহমুদ মাদানীর নির্দেশে, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মোহাম্মদ হাকিমুদ্দিন কাসেমীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল, বুধবার রাজলীলা গ্রাউন্ড, পীতামপুরা (শাকুর বাস্তি) এর কাছে রানীবাগ থানায় এসিপি মঙ্গোলপুরী জনাব মুরারি লালের সাথে সাক্ষাত করে প্রতিবাদ জানান।

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বিতর্ক ও ভাংচুরের ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত স্মারকলিপি জমা দেন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসএইচও), প্রতিনিধিদল দিল্লি পুলিশের কাছ থেকে অবিলম্বে এবং ন্যায্য আইনি ব্যবস্থা দাবি করে। স্থানীয় এমএলএ কার্ণেল সিং-এর উস্কানিমূলক বিবৃতি, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা-জনসীমার কার্যকলাপ এবং আইন তাদের নিজের হাতে তুলে নেওয়াসহ গৃহীত পদক্ষেপগুলো তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করা হয় স্মারকলিপিতে।

বিজ্ঞাপন
banner

জমিয়ত উলেমা-ই-হিন্দের সেক্রেটারি নিয়াজ আহমেদ ফারুকী স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিনিধিদল পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে ভিডিও রেকর্ডিং, মিডিয়া রিপোর্ট এবং সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্টসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যও হস্তান্তর করে। স্মারকলিপিতে স্পষ্ট করা হয় যে, এমএলএ কর্নেল সিং দাবি করেছেন যে ধ্বংস করা কাঠামো বা দেয়াল একটি মসজিদ বা মাদরাসার অংশ ছিল, সম্পূর্ণরূপে ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর। কাঠামোটি মসজিদ বা মাদরাসার অংশ নয়, কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে সাম্প্রদায়িক ভাব উস্কানি ও জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়েছে যে এমএলএ কার্ণেল সিং শুধু আইন হাতে নেওয়ার পদক্ষেপই নেননি বরং ক্রমাগত উস্কানিমূলক এবং ঘৃণা ছড়ানো বিবৃতিও দিয়েছেন, যা জাতীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছিল এবং যা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছিল। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এই ভিডিও ও খবর শেয়ার করে নিজেই এটি নিজের “প্রাপ্তি” হিসেবে তুলে ধরেন বিধায়ক। একটি ভিডিওতে তিনি অভিযোগ করেন, “এখানে মাদ্রাসাও চালাতে দেওয়া হবে না মসজিদও চালাতে দেওয়া হবে না।

জমিয়ত উলেমা-ই-হিন্দ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, এই ধরনের বিবৃতি এবং কার্যকলাপ এলাকায় ভয়, নিরাপত্তাহীনতা এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার পরিবেশ সৃষ্টি করেছে এবং আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করেছে।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে যে, একজন নির্বাচিত প্রতিনিধির স্লোগানে নাশকতার জন্য উতসাহ এবং একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে সরাসরি উস্কানি এবং ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে। যা ভবিষ্যতে বিশৃঙ্খলা এবং আইন নিজের হাতে তুলে নিতে উৎসাহিত করতে পারে।

প্রতিনিধিদল দিল্লি পুলিশকে 153A, 153B, 295A, 505 এবং অন্যান্য সম্পর্কিত ধারার অধীনে এমএলএ কার্ণেল সিংয়ের বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করার দাবি জানিয়েছে। একই সাথে ধ্বংস হয়ে যাওয়া কাঠামোর প্রকৃত মালিকানা যাচাই করে সুষ্ঠু ও সময়মত সত্য জনসম্মুখে উপস্থাপন করতে হবে। এছাড়াও মসজিদে আসা নামাজের নিরাপত্তা ও এলাকায় শান্তি বজায় রাখার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ ব্যবস্থা করতে হবে।

স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়েছে যে, কোন ব্যক্তি, কোন রাজনৈতিক অবস্থান বা প্রভাব নির্বিশেষে, আইন নিজের হাতে নিতে দেওয়া উচিত নয়। দেশের সাম্প্রদায়িক ঐক্য ও সামাজিক সম্প্রীতি সব অবস্থাতেই রক্ষা করা প্রশাসনের দায়িত্ব।

জমিয়ত উলামা দিল্লীর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আফতাব আলম সিদ্দিকী, সহ-সভাপতি মাওলানা মুফতি খলিল কাশেম, কারী মোহাম্মদ আরিফ কাশেম, নাজিম তানযীম হাফিজ মোহাম্মদ ইউসুফ আল-আজমী, কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মুফতি জাকির হোসেন কাশেম এবং মাওলানা জামশেদ (ইমাম, মসজিদ নূর-উল- হুদা, পীতামপুরা) এবং ডঃ মোহাম্মদ ইউসুফ প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে যুক্ত ছিলেন।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222