মাসজুড়ে লিচুর বাণিজ্য ছাড়াবে দেড় হাজার কোটি টাকা

by Abid vs36

কেউ ঝুড়ি ভর্তি, আবার কেউ ভ্যান ভর্তি লিচু নিয়ে হাজির হচ্ছেন হাটে। ক্রেতা-বিক্রেতার নানামুখী হাঁকডাক আর ধুমধাম বেচাকেনায় এখন পুরোদমে জমজমাট দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লিচুর হাট। বেদানা, বোম্বাই, মাদ্রাজ ও চায়না-থ্রি সহ নানা জাতের লাল-সবুজ রঙের লিচুতে রঙিন হয়ে উঠেছে উত্তরের জেলা দিনাজপুর শহরের নিউ মার্কেট এলাকা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যারা পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে দিনাজপুরে এসেছিলেন, কর্মস্থলে ফেরার পথে তাদের প্রায় সবাই সঙ্গে করে লিচু নিয়ে যাচ্ছেন। ঈদের ঠিক পরের দুইদিন বাজার কিছুটা নিম্নমুখী থাকলেও হঠাৎ করে এখন আবার লিচুর চাহিদা ও দাম দুই-ই বেড়ে গেছে। তবে ঈদের ছুটির কারণে বাইরে থেকে পর্যাপ্ত পাইকার না আসা এবং কুরিয়ার সার্ভিস বন্ধ থাকায় কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ার কিছুটা অভিযোগও রয়েছে স্থানীয় সাধারণ ব্যবসায়ীদের।

বিজ্ঞাপন
banner

দিনাজপুরের স্থানীয় বাজারে বর্তমানে উন্নত জাতের চায়না-থ্রি লিচু প্রতি হাজার বিক্রি হচ্ছে ৯ হাজার থেকে সাড়ে ৯ হাজার টাকায়। অন্যদিকে বোম্বাই জাতের লিচু প্রতি হাজার বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা দরে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের পরের কয়েকদিন কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় বাগানিরা হয়তো কিছুটা লিচু ভাঙা কমিয়ে দিয়েছিলেন, যার প্রভাব বাজারে পড়েছে। চলতি মৌসুমে দিনাজপুরে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে, যেখান থেকে অন্তত ৭শত কোটি টাকার ফল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। দিনাজপুর হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. এজামুল হক জানান, বাজারে আগত ক্রেতারা যাতে নির্বিঘ্নে ও ভালো মানের লিচু কিনতে পারেন, সেজন্য চাষিদের রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনসহ সার্বিক কৃষি বিষয়ক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে লিচুর অন্যতম বৃহৎ রাজধানী হিসেবে পরিচিত পাবনার ঈশ্বরদীর হাটগুলোতেও সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে উৎসবমুখর বেচাকেনা। তবে বিপুল ফলন হওয়ায় গতবারের তুলনায় চলতি মৌসুমে দাম কিছুটা কম বলে দাবি করছেন বিক্রেতারা। হাটে বর্তমানে জাতভেদে লিচুর হাজার বিক্রি হচ্ছে ২৫শত থেকে ৩২শত টাকায়। হাটের পাশাপাশি বাগানগুলোতেও এখন লিচু সংগ্রহ ও বাছাইয়ের কাজে দম ফেলার ফুরসত নেই বাগানীদের। পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক রাফিউল ইসলাম বলেন, চলতি বছর জেলায় প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজার পরিস্থিতি এমন থাকলে এই জেলায় প্রায় ৮শত কোটি টাকার লিচু কেনাবেচা হবে এবং কৃষকরা লাভবান হবেন।

অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তবর্তী বিজয়নগরের হাটবাজারগুলোতেও এখন থোকায় থোকায় সাজানো রয়েছে রঙিন লিচু। বছরের এই নির্দিষ্ট সময়টায় লিচুকেন্দ্রীক অর্থনীতি যেন পুরোপুরি প্রাণ ফিরে পায়। ঢাকার কাছাকাছি ভৌগোলিক অবস্থান এবং অনন্য স্বাদের কারণে এখানকার আউলিয়া বাজারে ভৈরব, আশুগঞ্জ, কুমিল্লা ও শ্রীমঙ্গলসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা ছুটে আসছেন। ব্যবসায়ীদের মতে, প্রতিদিন সকালে এই আউলিয়া বাজারেই প্রায় দুই থেকে তিন কোটি টাকার লিচু কেনাবেচা হয়। অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য বাজারে আসা এই রসালো ফলটি চলতি জুন মাসজুড়েই মিলবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, মাসব্যাপী এই বেচাকেনায় কেবল দিনাজপুর, পাবনা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মিলিয়েই এবার অন্তত ১৬শত কোটি টাকার এক বিশাল অর্থনৈতিক বাণিজ্য সম্পন্ন হবে।

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222