দেশের বিভিন্ন সংবাদপত্রে উঠে আসা আজকের আলোচিত প্রতিবেদনগুলোতে অর্থনৈতিক সংকট, জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি এবং রাজনৈতিক প্রভাবের চিত্র ফুটে উঠেছে। ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট থেকে শুরু করে বিদেশি ঋণের পাহাড়সম দায়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে দেশ।
ব্যাংকে নগদ টাকার সংকট
আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে ব্যাংক খাতে নগদ টাকার চাহিদা বাড়লেও দেখা দিয়েছে সংকট। দৈনিক সমকালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঈদ উপলক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক টাকশালের কাছে ১৬ হাজার কোটি টাকার নতুন নোটের চাহিদা দিয়েছিল। কিন্তু কাগজ ও কালির সংকটের কারণে টাকশাল মাত্র ৮ হাজার কোটি টাকার নোট সরবরাহ করতে পারবে বলে জানিয়েছে। এই তারল্য ঘাটতি ব্যাংক খাতের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিপুল বিদেশি ঋণের দায় জনগণের ঘাড়ে
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির আরেকটি বড় উদ্বেগের কারণ বিদেশি ঋণের বোঝা। দৈনিক যুগান্তরের খবরে বলা হয়েছে, বিগত সাড়ে ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার উন্নয়ন প্রকল্পের নামে ৮ হাজার ৬২ কোটি ডলারের বিশাল ঋণ গ্রহণ করেছে। এই ঋণের সিংহভাগই নেওয়া হয়েছে কঠিন শর্তে এবং চড়া সুদে। ডলার সংকটের কারণে বিগত সরকার ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে ঋণের মেয়াদ বাড়াতে বাধ্য হয়েছিল, যার দায়ভার এখন জনগণের ওপর এসে পড়েছে।
ক্ষমতার আশীর্বাদ ও ময়লা-বাণিজ্য
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রভাব ব্যবসায়িক খাতে কতটা গভীর, তার একটি উদাহরণ উঠে এসেছে দৈনিক প্রথম আলোর প্রতিবেদনে। ‘ময়লা-বাণিজ্য’ শিরোনামের ওই খবরে দেখানো হয়েছে, কীভাবে ক্ষমতাসীন দলের আশীর্বাদ ছাড়া কোনো লাভজনক ব্যবসায় টিকে থাকা কঠিন ছিল। স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সন্তুষ্টির ওপর নির্ভর করে কীভাবে সাধারণ ব্যবসায়ীরা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ পান, তা সাহাবুদ্দিন আলী নামের এক ব্যক্তির উদাহরণের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
হামে মৃত্যুর ঝুঁকিতে শিশুরা
জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে উদ্বেগের খবর জানিয়েছে বণিক বার্তা। দেশের হামের টিকাদান কর্মসূচি চলমান থাকলেও পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয়নি। বিশেষ করে ৯ মাসের কম বয়সী শিশুরা, যাদের এখনো টিকা দেওয়ার বয়স হয়নি, তারা বেশি মৃত্যুর শিকার হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মায়েদের শরীরের ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধক্ষমতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে গবেষণার তাগিদ দিয়েছেন।
টিএইচএ/
