বিশেষ প্রতিবেদক :: অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারলে আফগানিস্তান আঞ্চলিক সংযোগে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করতে পারবে বলে মন্তব্য করেছেন আফগানিস্তানের ইসলামিক আমিরাতের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী নূরুদ্দিন আজিজি। তিনি বলেন, আফগানিস্তানের কৌশলগত অবস্থান এটিকে মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সংযোগকারী সেতু হিসেবে কাজ করার এক অনন্য সুযোগ করে দিয়েছে।
তাশখন্দে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় তেরমেজ সংলাপে আফগানিস্তানের ইসলামিক আমিরাতের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী ভার্চুয়ালি বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
নূরুদ্দিন আজিজি বলেছেন যে, আফগানিস্তানের কৌশলগত অবস্থান এটিকে মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সংযোগকারী সেতু হিসেবে কাজ করার এক অনন্য সুযোগ করে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সংযোগ উদ্যোগ হিসেবে আফগান-ট্রান্স প্রকল্পটি মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার রেল নেটওয়ার্কগুলোকে সংযুক্ত করতে, বাণিজ্য সম্প্রসারণে, ট্রানজিট সহজতর করতে এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আজিজি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, অভিন্ন অর্থনৈতিক স্বার্থ দীর্ঘস্থায়ী শান্তি, পারস্পরিক আস্থা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি মজবুত ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।”
এদিকে, তেরমেজ সংলাপে অংশগ্রহণকারী আফগানিস্তান চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের প্রধান বাণিজ্য ও ট্রানজিটের ক্ষেত্রে আফগানিস্তান এবং মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর, বিশেষ করে উজবেকিস্তানের মধ্যে সহযোগিতার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি দেশগুলোকে বাণিজ্যকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার আহ্বান জানান।
তিনি কাবুল ও তাশখন্দের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির কথাও উল্লেখ করেন এবং ট্রানজিট ও পরিবহন সংক্রান্ত বাধাগুলো দূর করার আহ্বান জানান। একইসাথে তিনি আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক সহযোগিতা সহজ করার জন্য একটি সুস্পষ্ট পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
চেম্বারের প্রধান সায়েদ করিম হাশেমি বলেন, “আমরা আফগানিস্তানের প্রতি উজবেকিস্তানের দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করি এবং বিশ্বাস করি যে এই সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।” আফগান বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান বিষয় হলো ট্রানজিট ও বাণিজ্যিক বাধা হ্রাস করা। আফগান ও আঞ্চলিক ব্যবসায়ীদের জন্য সংক্ষিপ্ত পথ, কম পরিবহন খরচ এবং পণ্যের দ্রুত চলাচল প্রয়োজন।
সম্মেলনটি “শান্তি, সংযোগ, স্থায়িত্ব: যৌথ সমৃদ্ধির ভিত্তি নির্মাণ” এই প্রতিপাদ্যের অধীনে অনুষ্ঠিত হয় এবং উজবেকিস্তানের রাষ্ট্রপতির অধীনস্থ ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টাররিজিওনাল স্টাডিজ ও দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটি আয়োজন করে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষক মীর শাকের ইয়াকুবি আফগানিস্তানের ভৌগোলিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, দেশটির এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে। তিনি আরও বলেন, এর মাধ্যমে অঞ্চলজুড়ে বাণিজ্য ও ট্রানজিট আদান-প্রদান আরও জোরদার হতে পারে।
আয়োজকদের মতে, মধ্য এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া এবং বিশ্বের অন্যান্য অংশ থেকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থা, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং গবেষণা কেন্দ্রগুলোর ১৫০ জনেরও বেশি প্রতিনিধি এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
