৩৬ নিউজ ডেস্ক:: বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের ৫টি সংবাদমাধ্যমে সরকারি প্রশাসক নিয়োগের আবেদন জানানো হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী, সচিব, বিটিআরসি চেয়ারম্যান এবং ঢাকা জেলা প্রশাসক বরাবর এই আবেদন জমা দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম সারওয়ার হোসেন।
আবেদনের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, আইন, স্বরাষ্ট্র, ভূমি ও গৃহায়ন মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো ‘পেশাদারত্বহীন, মাফিয়াতন্ত্রের হাতিয়ার এবং দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত’। এছাড়া মূল গ্রুপটির বিরুদ্ধে নদী-নালা ও জলাভূমি দখল, আবাসিক এলাকায় চাঁদাবাজি, রাজউকের প্ল্যান জালিয়াতি এবং হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ নিয়ে দুবাই, সিঙ্গাপুর, সাইপ্রাস, লন্ডন ও মালয়েশিয়ায় অর্থ পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট এনেক্স ভবনের সামনে আইনজীবী এম সারওয়ার হোসেন বলেন, ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়ার নিয়ন্ত্রণে কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, দ্য ডেইলি সান, নিউজ টোয়েন্টিফোর টিভি এবং বাংলা নিউজ টোয়েন্টিফোর— এই ৫টি গণমাধ্যম রয়েছে। গ্রুপটির চেয়ারম্যান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, শাহ আলম সাহেব চেয়ারম্যান হয়ে রাষ্ট্রের ভেতরে একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছেন।
জমি দখল ও ফৌজদারি অপরাধের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, তারা সরকারি অনেক জমি দখল করেছে, যার পরিমাণ হাজার থেকে লক্ষ একর হতে পারে এবং বর্তমানে এটি সিআইডি তদন্ত করছে। পাশাপাশি তার ছেলেরা বিভিন্ন ধরনের ক্রিমিনাল অফেন্স কমিট করেছে। নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অপকর্ম, মানি লন্ডারিং, ধর্ষণ, খুন ও জমি দখলের মতো অপরাধ ধামাচাপা দিতে এবং এর বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই এই ৫টি গণমাধ্যমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে একসঙ্গে অপপ্রচার ও মানহানিকর মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। মুনিয়া ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের আইনি লড়াইয়ে বাধা সৃষ্টির ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, তারা চাচ্ছে তাদের ছেলেপেলেরা যা খুশি তাই করবে, অথচ ভিক্টিম পরিবার একজন আইনজীবীও নিয়োগ করতে পারবে না।
তবে সংবাদমাধ্যমগুলোতে কর্মরতদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে সারওয়ার বলেন, এই মিডিয়া হাউজের সাংবাদিক ভাইয়েরা বাধ্য হয়ে এই অনৈতিক অপপ্রচার চালাচ্ছেন, তাদেরকে আমি দোষ দিই না। প্রশাসক নিয়োগ হলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপের প্রশ্ন উঠবে কিনা— এমন প্রশ্নে তিনি গণমাধ্যমগুলো বন্ধের পক্ষে নন জানিয়ে বলেন, আমরা চাচ্ছি মিডিয়া হাউজগুলো চলমান থাকুক, তবে এই মিডিয়াকে পেশাদারিত্বে ফেরত আনতে হবে। প্রেস কাউন্সিলে না গিয়ে মন্ত্রণালয়ে কেন আবেদন করলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেস কাউন্সিলকে একটি ‘দন্তহীন সংস্থা’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তারা শুধু সতর্ক করতে পারে, এর বাইরে তাদের আইনে কোনো এখতিয়ার নেই। সরকার এই আবেদনের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নিলে পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করা হবে বলেও ঘোষণা দেন এই আইনজীবী।
হাআমা/
