নিজেস্ব প্রতিবেদক: ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টে ঘটে যাওয়া বহুল আলোচিত ‘রয়েল রিসোর্ট’ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন ইসলামী বক্তা ও রাজনৈতিক নেতা মাওলানা মামুনুল হক।
এক দীর্ঘ বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, ওই দিন তিনি তার তৎকালীন স্ত্রী জান্নাত আরাকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টের ৫০১ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছিলেন। তার অভিযোগ, পুলিশ, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী, কিছু সাংবাদিক এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা জোরপূর্বক কক্ষে প্রবেশ করে তাকে ও তার স্ত্রীকে হয়রানি করেন এবং ঘটনাটি বিভিন্ন মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
মামুনুল হক বলেন, তিনি ও জান্নাত আরা উভয়েই বারবার নিজেদের বৈবাহিক সম্পর্কের বিষয়টি স্পষ্ট করেছিলেন। তার দাবি, পরবর্তীতে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংস্থা এবং সরকারের ঘনিষ্ঠ মহল পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায় এবং ঘটনাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে।
বিবৃতিতে তিনি জানান, জান্নাত আরার সঙ্গে তার বিবাহ শরিয়াহসম্মত ছিল এবং এটি কোনো অস্থায়ী বা ‘মুতা’ বিয়ে ছিল না। তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন সরকার ও বিভিন্ন গণমাধ্যম তার সম্পর্কে ‘চুক্তিভিত্তিক বিয়ে’সহ নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছে।
মামুনুল হক আরও দাবি করেন, ঘটনার পর তাকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল যাতে তিনি কিছু ইসলামি নেতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তবে তিনি সে ধরনের কোনো প্রস্তাবে সাড়া দেননি বলে উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, জান্নাত আরার সঙ্গে তার বৈবাহিক সম্পর্ক ২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বহাল ছিল। পরে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে।
বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক ও আদর্শিক বিরোধের কারণে এখনো অনেকেই রয়েল রিসোর্টের ঘটনাকে ব্যবহার করে তার চরিত্র হননের চেষ্টা করছেন। তবে তিনি এসব সমালোচনাকে গুরুত্ব দেন না বলেও উল্লেখ করেন।
‘৫০১’ সংখ্যাটিকে ঘিরে বিভিন্ন মহলের কটাক্ষের জবাবে মামুনুল হক বলেন, “৫০১ আমাদের পরাজয়ের নয়, বরং ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের ব্যর্থ ষড়যন্ত্রের প্রতীক। আমরা এটিকে আমাদের বিজয়ের স্মারক হিসেবে বিবেচনা করি।”
সবশেষে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকারীদের উদ্দেশে ‘মুবাহালা’র আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন এবং সত্য প্রতিষ্ঠায় নিজের অবস্থানে অটল থাকার কথা জানান।
এনআর/
