রাজনীতিতে নারী ও ইসলাম : আল্লামা মামুনুল হক

by hsnalmahmud@gmail.com

ইতিপূর্বে আমি আমার রাজনৈতিক ভাবনাগুলো লিখতে গিয়ে একটা বিষয়ে আমার দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামত ব্যক্ত করেছি যে, ইসলামপন্থীদের জন্য রাজনীতির অঙ্গনে নারী ইস্যুকে সুন্দর,মার্জিত ও ভারসাম্যপূর্ণভাবে ডিল করা জরুরী। এটা করতে ব্যর্থ হলে তাদেরকে বারবার বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে।

বর্তমানে আমরা ইসলাম ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষার লক্ষ্যে আধিপত্যবাদের মোকাবেলায় সংগ্রামের মাঠে আছি। একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত তথা সংস্কার আন্দোলনের ঐক্যবদ্ধ প্লাটফর্মে কাজ করছি। যেখানে অনেকগুলো ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠন যেমন রয়েছে, আবার রয়েছে সাধারণ রাজনৈতিক দলও। ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলো তাদের যে কোন কর্মকাণ্ডে শরীয়তের সীমারেখা মেনে চলতে বাধ্য। অপরদিকে সাধারণ রাজনৈতিক দলগুলো তাদের কাজেকর্মে অনেক ক্ষেত্রেই ইসলামী শরীয়তের সীমারেখা রক্ষা করে চলে না।

বিজ্ঞাপন
banner

এই ক্ষেত্রে রাজনীতি, সংগ্রাম- আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণের পথ-পদ্ধতি নিয়ে তো একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছেই।

ইসলামী সংগঠনগুলো রাজনীতিতেও নারীদের কর্মক্ষেত্রকে পুরুষদের থেকে যথাসম্ভব ভিন্ন রাখে। পক্ষান্তরে সাধারণ রাজনৈতিক দলগুলো তা করে না, বরং তারা সমান্তরালে ও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে। এ বিষয় নিয়ে যখনই এই দুই ধারার রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চায়, তখনই একটা জটিলতা তৈরি হয়।
সাধারণ রাজনৈতিক দলগুলোতে নারীদেরকে সমান্তরালে কাজ করে নেতৃত্বের চর্চা করতে হয়। সে ক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচির ক্ষেত্রে নারীরা অংশগ্রহণ করতে না পারলে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় এবং নেতৃত্ব বিকাশে পিছিয়ে পড়তে হয়। ফলে তাদের দলের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়।
আবার ইসলামী দলগুলোর সাথে অভিন্ন কর্মসূচিতে তাদের নারীরা দলীয় কর্মসূচির মত করে অংশগ্রহণ করতে গেলে ইসলামী দলগুলোতে আদর্শিক জায়গা থেকে প্রশ্ন ওঠে। এটি একটি সমস্যা, যা উভয়পক্ষকেই উপলব্ধি করতে হবে এবং যার যার জায়গা থেকে বিকল্প ভাবনা ভাবতে হবে।

এখানে আদর্শগত এবং কর্মকৌশলগত ভিন্নতা থাকলেও একটি বিষয়ে কোন মতভিন্নতা নেই এবং থাকতে পারে না। সেটি হল কোনভাবেই কাউকে অসম্মান করা যাবে না। নারীকে অসম্মান করার কোন সুযোগ নেই। বিষয়টি সাধারণ কিংবা স্যেকুলার রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর জন্য যতটা প্রযোজ্য, ইসলামী সংগঠন গুলোর জন্য আরো বেশি প্রযোজ্য। কেননা এ বিষয়ে তাদের জবাবদিহিতা দুই জায়গায়- জনতার কাছে এবং ইসলামের কাছে।

গত ২৩ শে জুন ১১ দলের একটি রাজনৈতিক সমাবেশের চিত্র নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মিডিয়াতে কিছু সমালোচনা হতে দেখা গিয়েছে এবং সেখানে নারীর প্রতি অসম্মানের অভিযোগ তোলা হয়েছে। যদিও সরাসরি অভিযোগ করা হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির নেতৃত্বের উপর। কিন্তু সেই মঞ্চের একজন উপস্থিত দায়িত্বশীল হিসেবে অভিযোগটি আমার উপরেও বর্তায়। আর তাই আমি আমার ব্যাখ্যা দেওয়ার গরজ অনুভ করছি।

আলোচনায় সেদিনের সমাবেশের একটি খন্ড চিত্রের ছবি সামনে আনা হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে পুরুষরা মঞ্চের উপরে বসে আছে আর কিছু নারী মঞ্চের নিচে বসে আছে। এর মাধ্যমে নারী পুরুষের মধ্যে বৈষম্যের প্রমাণ হিসেবে ব্যাপারটিকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

আসলে এখানে ছবির খন্ডিত অংশবিশেষকে মূল্যায়ন করা হয়েছে, পুর্ণ ছবির নয়। পুর্ণ ছবির মধ্যে চার ধরনের দৃশ্য আমরা দেখতে পাবো। যথাক্রমে-

১) স্টেজের উপরে বসা কিছু মানুষ ।
২) স্টেজের নিচে চেয়ারের উপর বসা কিছু মানুষ।
৩) চেয়ারের নিচে মাটিতে বসা কিছু মানুষ।
৪) মাটিতে দাঁড়িয়ে থাকা অধিকাংশ মানুষ।

মূলত এই চারটি শ্রেণীকে মোটা দাগ দুই ভাগে ভাগ করা যায়। একটি হলো স্টেজ। অপরটি হল অডিয়েন্স। অডিয়েন্সের মানুষগুলো কেউ চেয়ারে কেউ মাটিতে বসেছে। অবশিষ্টরা সেই সুযোগও পায়নি, দাঁড়িয়ে থেকেছে।
এখানে লক্ষণীয় হলো, যে সকল নারী কর্মী সমাবেশে উপস্থিত ছিল তারা ছিল অডিয়েন্সের অংশ।
সেখানে তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনায় চেয়ার রাখা হয়েছে। আর পুরুষদেরকে খালি মাটিতে বসতে দেয়া হয়েছে অথবা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। সুতরাং এখানে অন্য অনেক প্রশ্ন করা গেলেও নারীর প্রতি বৈষম্য কিংবা অসম্মানের প্রশ্নটি সঠিক বলে মনে করি না। প্রশ্ন একটি করা যায়। সেটি হল, স্টেজে নারী নেত্রীদেরকে আনা হলো না কেন? সেটা ওই যে বললাম দুই আদর্শের মতবিরোধ।

এটা নিয়ে এনসিপিকে ঘরে বাইরে ধৈর্য, সহনশীলতা ও বাস্তবতার নিরিখে কাজ করে যেতে হবে। ইসলামী সংগঠনগুলোকেও এই বিষয়ে দায়িত্বশীলতা ও সৌজন্যতার সর্বোচ্চ পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করতে হবে। মতবিরোধের এই জায়গায় কোন ধরনের অসহনশীল বা কটু মন্তব্য কাম্য নয়।

হাআমা/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222