লক্ষ্মীপুরে তিন মেয়েসহ মাকে কুপিয়ে হত্যায় হিন্দু যুবক! মিডিয়ায় নেই কেন নাম?

by hsnalmahmud@gmail.com

চিফ রিপোর্টার:: বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একই পরিবারের চারজন নারীকে ঘরে ঢুকে কুপিয়ে হত্যার এক বর্বরোচিত ঘটনা ঘটেছে। নিহতরা হলেন শাহিনুর বেগম (৩৮) এবং তাঁর তিন কন্যা সায়মা আক্তার (২১), ইকরা আক্তার (১৭) ও শিফা আক্তার (৯)। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বেলা ১১টার দিকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে।

ঘটনার পর পালানোর সময় স্থানীয় বাসিন্দারা মূল অভিযুক্ত যুবককে ধরে গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তবে এই ঘটনার পর দেশের মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে অভিযুক্তের নাম ও ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশ না করে তা এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বিজ্ঞাপন
banner

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন অভিযুক্তের পরিচয় হিন্দু হওয়ার কারণেই কি গণমাধ্যম এই রহস্যজনক নীরবতা পালন করছে?

Anti Hindutva Activisms নামে ফেসবুকের এক গ্রুপ থেকে Deepak Bhattacharya নামে একজন লিখেন, ‘লক্ষ্মীপুরে একই পরিবারের মা-মেয়ে সহ ৪ জনকে গলাকেটে বলি দিয়েছে সাহসী হিন্দু যোদ্ধা রামসৈনিক অন্তর মজুমদার। নোয়াখালীর সুবর্ণচরের কার্তিক মজুমদারের ছেলে সে। রাম মন্দির বানানোর বিরোধিতা করার ফল বাংলাদেশের মুসলমানদের হাতেনাতে ধরিয়ে দেয়া হলো। আর কেউ কখনো রামের বিরোধিতা করবে না। করলে এভাবে রামের নামে ব’লি দেয়া হবে।’- ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

‘সাধারণ আলেমসমাজ’-এর তীব্র নিন্দা ও বিস্তারিত বক্তব্য

হত্যাকাণ্ডের পর ‘সাধারণ আলেমসমাজ’ নামক একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতিতে তারা ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, ‘একটি স্বাধীন ও মুসলিম প্রধান দেশে একই পরিবারের চারজন নিরপরাধ মানুষকে (মা ও তিন মেয়ে) কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে লক্ষ্য করছি যে, মূলধারার বেশ কিছু মিডিয়া ও গণমাধ্যম এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা হিন্দু যুবক অন্তর মজুমদারের নাম ও ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশে এক ধরণের রহস্যজনক নীরবতা বা এড়িয়ে যাওয়ার নীতি অবলম্বন করছে। অপরাধীকে কেবল ‘সংখ্যালঘু’ কার্ড ব্যবহার করে বিশেষ কোনো সুবিধা বা আইনি শিথিলতা দেওয়ার সুযোগ নেই। আইনের চোখে সবাইকে সমান বিবেচনা করতে হবে।’

বিবৃতিতে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমালোচনা করে বলা হয়, নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। একের পর এক এ ধরনের নৃশংস অপরাধ ঘটে চলা সত্ত্বেও অপরাধীদের কঠোর ও দ্রুত শাস্তি না হওয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতাকেই স্পষ্ট করে তোলে।

বিবৃতিতে আলেমসমাজ আরও দাবি করে, এই ঘটনাকে কেবল একটি বিচ্ছিন্ন বা সাধারণ হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে এক শ্রেণীর উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর প্রকাশ্য ও উসকানিমূলক তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তির উসকানিমূলক বক্তব্যের বরাত দিয়ে বলেন, এ ধরনের চরমপন্থী বক্তব্য ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার পাঁয়তারা। চার মুসলিমকে হত্যার এই ঘটনা উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের সক্রিয় হয়ে ওঠার দিকেই ইঙ্গিত করে কি না—তা নিয়ে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সরকারকে এ বিষয়ে সতর্ক পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানান।

সাধারণ আলেমসমাজ

সাধারণ আলেমসসমাজের দেয়া বিবৃতির ছবি। ছবি: সংগৃহীত

উত্যক্ত করার জের ও পুলিশের বক্তব্য

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত শাহিনুর বেগমের স্বামী কামাল হোসেন ৭ বছর আগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর থেকে চার সন্তানকে নিয়ে তিনি চরম অর্থনৈতিক অনটনের মধ্যে জীবনসংগ্রাম চালাচ্ছিলেন। তার একমাত্র ছেলে সিফাত হোসেন (১৮) স্থানীয় বণিক সমিতির একটি দোকানে চাকরি করে পরিবারের হাল ধরেছিলেন। ঘটনার সময় সিফাত কর্মস্থলে থাকায় বেঁচে যান, তবে মা ও তিন বোনকে হারিয়ে তিনি এখন সম্পূর্ণ বাকরুদ্ধ।

হত্যাকাণ্ডের মোটিভ সম্পর্কে লক্ষ্মীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, ‘হত্যার মোটিভ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে আমাদের তদন্ত চলমান। তবে স্থানীয় লোকজন ও প্রতিবেশীরা আমাদের বলেছেন, ঘাতক অন্তরের চরিত্র ভালো ছিল না। এক বছর আগে সে ওই ভবনের পাঁচতলায় ভাড়া থাকত এবং শাহিনুরকে বিরক্ত করত। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে বাড়িওয়ালা তাকে বাসা থেকে বের করে দেন। হয়তো সেই প্রতিশোধ নিতেই সে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা সব তথ্যই যাচাই-বাছাই করছি।’

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া জানিয়েছেন, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত যুবকের নাম রতন মজুমদার (২৮) (ফেসবুক ও স্থানীয় সূত্রে অন্তর মজুমদার)। তার বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণচরে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় যাতে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেজন্য প্রশাসন তৎপর রয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

হাআমা/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222