আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের উত্তর প্রদেশে আবারও বুলডোজার দিয়ে মাসজিদ ভেঙে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। বিজনোর জেলার পেহারুওয়ালা গ্রামে শুক্রবার গভীর রাতে একটি নির্মীয়মাণ মসজিদ ভেঙে দেয় স্থানীয় প্রশাসন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন ছাড়া অবৈধভাবে এই নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছিল।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রামের বাসিন্দাদের উদ্যোগে প্রায় এক মাস ধরে ওই মসজিদটির নির্মাণকাজ চলছিল। তবে ভিন্ন ধর্মের একটি সংগঠনের সদস্যরা এই নির্মাণের বিরোধিতা করে প্রশাসনের দ্বারস্থ হন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমতি ছাড়াই সেখানে নতুন করে মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে। অভিযোগ পাওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে। তদন্ত শেষে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় কাঠামোটি নির্মাণের জন্য আইনানুযায়ী কোনো পূর্বানুমোদন নেওয়া হয়নি।
বিতর্ক এড়াতে এরপর প্রশাসনের উদ্যোগে দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, আলোচনার পর স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা প্রশাসনের উপস্থিতির আগেই কাঠামোর একটি অংশ নিজেরাই ভেঙে ফেলেন। তবে পরে রাতের দিকে প্রশাসনের তরফে বুলডোজার ব্যবহার করে অবশিষ্ট অংশটি সম্পূর্ণরূপে সরিয়ে দেওয়া হয়। এই উচ্ছেদ অভিযানের সময় মহকুমা প্রশাসনের আধিকারিক, পুলিশকর্তা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক প্রতিনিধিরা সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এখনও এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, উত্তর প্রদেশে সম্প্রতি অনুমোদন না থাকার অভিযোগ তুলে একাধিক মসজিদ ভেঙে ফেলা নিয়ে নতুন করে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মসজিদ, মাদ্রাসা ও ঈদগাহসহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনার বিরুদ্ধে নেওয়া এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে বিরোধী দল এবং মুসলিম সংগঠনগুলির একাংশ তীব্র প্রশ্ন তুলেছে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলি সব সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে না। এর আগেও সম্ভল ও মথুরাসহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় অনুরূপ উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রতিবাদ, বিক্ষোভ এবং বেছে বেছে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ সামনে এসেছে। ফলে বিজনোরের এই ঘটনাটি রাজ্যে চলমান সেই সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে।
টিএইচএ/
