আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: লাখো মানুষের অশ্রুসিক্ত অংশগ্রহণ ও অভূতপূর্ব শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে উপমহাদেশের প্রখ্যাত ইসলামি স্কলার, গবেষক ও লেখক মাওলানা সাইয়েদ সালমান আল হুসাইনী আন্ নাদভীর (রাহি.) জানাজার নামাজ। গতকাল ভারতের উত্তর প্রদেশের লখনউয়ের অদূরে মালিহাবাদের জামেয়াহ্ সৈয়দ আহমাদ শহীদ (কাটুলী) মাঠের বিশাল প্রাঙ্গণে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রিয় এই মনীষীকে শেষ বিদায় জানাতে সেখানে ভক্ত ও অনুরাগীদের এক বিশাল জনসমুদ্র সৃষ্টি হয়েছিল।
এর আগে গত সোমবার (২৯ জুন) ভোরে লখনউয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন গুণী এই শিক্ষাবিদ। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাওলানা সালমান নদভীর জানাজায় অংশ নিতে কেবল লখনউ বা এর আশপাশের এলাকা নয়, বরং নয়াদিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে হাজার হাজার মানুষ পঙ্গপালের মতো ছুটে আসেন। তাঁর এই চিরবিদায়ের ক্ষণে ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান ‘দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামা’ পরিবারে এক গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রিয় উস্তাদ ও রাহবারকে হারিয়ে ছাত্র, শিক্ষক ও মাদরাসার দায়িত্বশীলদের চোখে ছিল অশ্রুর অবিরাম ধারা।
এদিকে লাখো মানুষের এই বিশাল সমাগম সত্ত্বেও জানাজাস্থল ও এর আশপাশের এলাকায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি। শোকাতুর পরিবেশের মাঝেই অনুসারী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা পরম মমতায় আগত মেহমানদের স্বাগত জানান। কেউ স্বেচ্ছায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করেন, কেউ ক্লান্ত-তৃষ্ণার্তদের মুখে পানি তুলে দেন, আবার কেউবা দূর-দূরান্ত থেকে আসা প্রবীণ আলেম ও মেহমানদের গাড়ি থেকে নামিয়ে পরম যত্নে জানাজার ময়দানের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান। শোকাচ্ছন্ন পরিবেশের মাঝেও শৃঙ্খলার এমন মেলবন্ধন এক অনন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।
মাওলানা সালমান হুসাইনি নদভী ১৯৫৪ সালে লখনউয়ের এক ঐতিহাসিক আলেম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি লখনউয়ের দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামা এবং সৌদি আরবের ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনে তিনি নদওয়াতুল উলামার দাওয়াহ অনুষদের ডিন হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তরুণদের সামাজিক ও শিক্ষামূলক কাজে যুক্ত করতে তিনি ‘জমিয়াত শাবাবুল ইসলাম’ নামক একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। আরবি ও উর্দু ভাষায় তাঁর রচিত বহু গবেষণামূলক গ্রন্থ ইসলামি স্কলারশিপে বিশেষ অবদান রেখেছে।
জানাজা শেষে শায়খের অসিয়ত অনুযায়ী মালিহাবাদে তাঁর প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্যাম্পাসেই তাঁকে দাফন করা হয়। তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে ভারতের শীর্ষস্থানীয় আলেম সমাজ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ দেশ-বিদেশের ইসলামি অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
