৩৬নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের বহুল আলোচিত তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে (টিআরসিএমআরপি) পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে চীন। একই সঙ্গে ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যকার এই দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষের প্রভাব দ্বারা খর্ব হওয়া উচিত নয় বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছে দেশটি। তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ভারতের কৌশলগত উদ্বেগের বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, আমি জোর দিয়ে বলতে চাই যে চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং এটি সম্পূর্ণরূপে তৃতীয় পক্ষের প্রভাবমুক্ত থাকা উচিত।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তিস্তা অববাহিকা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় ঢাকা ও বেইজিংয়ের এই যৌথ উদ্যোগ নিয়ে নয়াদিল্লির মধ্যে দীর্ঘদিনের গভীর উদ্বেগ রয়েছে। তবে চীনের পক্ষ থেকে একে স্রেফ বাংলাদেশের জনগণের জীবনমান উন্নয়নের একটি প্রকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। গুও জিয়াকুন এ প্রসঙ্গে বলেন, তিস্তা নদীর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার মূলত একটি জনকল্যাণ ও জীবিকা-কেন্দ্রিক প্রকল্প, যাকে বাংলাদেশ সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। চীন এই বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে সম্ভাব্য সব ধরনের অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহায়তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশের উন্নয়ন কৌশলের সাথে সমন্বয় জোরদার করাসহ বাণিজ্য, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন ক্ষেত্রে বেইজিং সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রস্তুত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে প্রথমবারের মতো এই প্রকল্পটির ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের (ফিজিবিলিটি স্টাডি) কাজ পরিচালনা করবেন। তিনি উল্লেখ করেন, এবার উভয় পক্ষই কারিগরি মূল্যায়নের বিষয়ে একমত হয়েছে, যা আগের আলোচনাগুলোতে এই পর্যায়ে ছিল না। সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদনে এই প্রকল্পের যৌক্তিকতা ও কার্যকারিতা প্রমাণিত হওয়ায় চীন এতে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। বাংলাদেশ ও চীন সম্প্রতি তিস্তাসহ দেশের সার্বিক নদী ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক সমঝোতায় পৌঁছানোর পর থেকেই পুরো প্রক্রিয়াটি ভারতের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে ভারতের উদ্বেগের মূল কারণ ব্যাখ্যা করে বলা হয়েছে, তিস্তা নদী কৌশলগতভাবে ভারতের অত্যন্ত সংবেদনশীল শিলিগুড়ি করিডরের (যা চিকেন’স নেক নামে পরিচিত) খুব কাছাকাছি অবস্থিত। নয়াদিল্লির আশঙ্কা, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সুবাদে বাংলাদেশের সীমান্ত অঞ্চলে চীনের প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি তৈরি হলে তা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সংযোগকারী এই করিডরের কৌশলগত নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। ভারতের এমন ভূ-রাজনৈতিক আপত্তির জবাবেই চীন স্পষ্ট করল যে বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের উন্নয়নমূলক অংশীদারিত্বে কোনো তৃতীয় পক্ষের নাক গলানোর সুযোগ নেই।
টিএইচএ/
