আফগান সীমান্তে পাকিস্তানের ‘ডাবল-ট্যাপ’ বিমান হামলা, শিশুসহ নিহত ৩৫

by Abid vs36

৩৬নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে পাকিস্তান যখন আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে প্রশংসিত হচ্ছে, ঠিক তখনই নিজেদের সীমান্ত অঞ্চলে রক্তক্ষয়ী ও নৃশংস হামলায় জড়িয়ে পড়েছে দেশটি। আফগানিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ‘ডাবল-ট্যাপ’ বিমান ও স্থল অভিযান চালিয়েছে। এতে শিশু ও নারীসহ অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। পাকিস্তান দাবি করেছে নিহতরা সবাই সন্ত্রাসী, তবে আফগানিস্তান এই দাবি জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করে একে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বর্বর হত্যাকাণ্ড বলে অভিহিত করেছে।

সামরিক পরিভাষায় ‘ডাবল-ট্যাপ’ বলতে একটি নির্দিষ্ট স্থানে প্রথমবার হামলার ঠিক পরপরই উদ্ধারকর্মী, চিকিৎসক ও সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে দ্বিতীয়বার আঘাত করাকে বোঝায়, যা আন্তর্জাতিক মহলে চরমভাবে নিন্দিত।

বিজ্ঞাপন
banner

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোমবার গভীর রাতে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলো আফগানিস্তানের তিনটি সীমান্ত জেলা পাক্তিকার জ্ঞান, পাক্তিয়ার চামকানি এবং কুনারের মারাওয়ারায় একযোগে বোমাবর্ষণ শুরু করে। প্রথম দফা হামলার ঠিক ২৫ মিনিট পর, যখন স্থানীয় গ্রামবাসীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া নারী ও চিৎকাররত শিশুদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন, ঠিক তখনই পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানগুলো উদ্ধারকারীদের ওপর দ্বিতীয় দফায় বোমা ফেলে। এই সুপরিকল্পিত দ্বিতীয় হামলার কারণেই নিহতের সংখ্যা মুহূর্তের মধ্যে ৩৫ ছাড়িয়ে যায় এবং শতাধিক মানুষ গুরুতর আহত হন। হাসপাতালের একাধিক ফুটেজে রক্তাক্ত শিশু ও বয়স্কদের স্ট্রেচারে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, প্রথম দফার হামলায় তার প্রতিবেশীর ঘর বিধ্বস্ত হলে তারা উদ্ধার করতে যান, কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই উদ্ধারকারী ভিড়ের ওপর আবারও বোমা ফেলা হয়। ওই এলাকায় কোনো সন্ত্রাসী তৎপরতা ছিল না এবং পাকিস্তান বিশ্ববাসীর কাছে মিথ্যাচার করছে বলেও দাবি করেন উদ্ধার হওয়া সাধারণ নাগরিকরা।

এদিকে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে এই অভিযানের কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি করাচিতে আধাসামরিক বাহিনীর ওপর হামলাসহ খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তানে ধারাবাহিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জবাবে এই ‘ইন্টেলিজেন্স-বেসড’ স্থল ও বিমান অভিযান চালানো হয়েছে। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) উপদল জামায়াত-উল-আহরার এবং ফিতনা আল খওয়ারিজের আস্তানা ধ্বংস করা। অভিযানে ২৯ জন উগ্রপন্থীকে নির্মূল করা হয়েছে বলে ইসলামাবাদ দাবি করেছে। গত সপ্তাহে করাচিতে পাকিস্তান রেঞ্জার্স ক্যাম্পে সন্ত্রাসী হামলায় তিন সেনা নিহত হওয়ার পর এই পাল্টা পদক্ষেপ নিল রাওয়ালপিন্ডি। সেই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে আহত এক আফগান নাগরিককে আটকের পর পাকিস্তান এই ঘটনার সাথে আফগানিস্তান ও ভারতের যোগসূত্র খোঁজার চেষ্টা করে, যদিও নয়াদিল্লি এই অভিযোগকে তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা ঢাকার অপচেষ্টা বলে নাকচ করে দিয়েছে।

অন্যদিকে কাবুলের তালেবান সরকার এই সামরিক আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে একটি ‘কাপুরুষোচিত অপরাধমূলক কাজ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানান, পাকিস্তানের এই বর্বর হামলায় ৪ থেকে ৯ বছর বয়সী শিশু এবং বৃদ্ধসহ ৩৫ জনেরও বেশি নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আফগান কর্তৃপক্ষ তাদের ভূমিতে কোনো সন্ত্রাসীর নিরাপদ আশ্রয় থাকার বিষয়টি বারবার অস্বীকার করে আসছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে তথাকথিত কাউন্টার টেররিজমের নামে পাকিস্তান বারবার আফগান আকাশসীমা লঙ্ঘন করছে এবং গত নয় মাসে পাকিস্তানের এমন সামরিক অভিযানে প্রায় ৫৭০ জন আফগান বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন বলে জাতিসংঘ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ ও দফায় দফায় সংঘর্ষের পর গত মার্চে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও সাম্প্রতিক এই ‘ডাবল-ট্যাপ’ হামলা দুই প্রতিবেশীর সম্পর্ককে আবারও চরম উত্তেজনার মুখে ঠেলে দিল।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222