নিজস্ব প্রতিবেদক :: টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা ঢলে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীগুলোতে পানি দ্রুত বাড়ছে। কুড়িগ্রামের দুধকুমার নদী ইতিমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। তিস্তা, সুরমা, কুশিয়ারা ও যাদুকাটাসহ কয়েকটি নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
সোমবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রামের পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদীর পানি ৯৩ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। একই সময়ে তিস্তা, সুরমা, কুশিয়ারা ও যাদুকাটা নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানি সতর্কসীমায় রয়েছে। বর্তমানে পর্যবেক্ষণাধীন স্টেশনগুলোর মধ্যে একটিতে পানি বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী এবং সিলেট ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। সর্বোচ্চ ১৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে কুড়িগ্রামের পাটেশ্বরীতে। উজানেও ভারী বৃষ্টি হয়েছে। ভারতের অরুণাচল প্রদেশের পাসিঘাটে ২০৩ মিলিমিটার এবং আসামের ডিব্রুগড়ে ১০৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুই দিন রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, অরুণাচল প্রদেশ ও মেঘালয়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। এরপরের তিন দিনও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার নদীগুলোর পানি আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত বাড়তে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২ থেকে ৪ জুলাইয়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়ার বিভিন্ন পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। এতে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে গঙ্গা ও পদ্মার পানি বাড়লেও বিপৎসীমার নিচে থাকবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আগামী ৭২ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জের নদীগুলো সতর্কসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হতে পারে। ফলে নিম্নাঞ্চলে প্লাবন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
বিভাগভিত্তিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, তিস্তা, দুধকুমার ও ধরলা নদীর পানি আগামী তিন দিনে আরও বাড়তে পারে। এর মধ্যে আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ধরলা নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও গাইবান্ধার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। কুড়িগ্রামে চলমান বন্যা পরিস্থিতিরও অবনতি হতে পারে।
এ ছাড়া আগামী ৪৮ ঘণ্টায় শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের নদীগুলোর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে থাকলেও চট্টগ্রাম ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি নদীর পানিও আগামী তিন দিনে বাড়তে পারে।
