ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :: এইচএসসি পরীক্ষায়ও এআইয়ের আক্রমণ। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া অ্যাডমিট কার্ড তৈরি করে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে এক ভুয়া পরীক্ষার্থী ও তার সহযোগীকে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) কসবা পৌরশহরের টিআলী কলেজ এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জরিমানাপ্রাপ্তরা হলেন, কসবা মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী তাসফিয়া জান্নাত (১৮) এবং তার সহযোগী ইনজামুল হক (১৯)।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের সময় এক পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্র দেখে দায়িত্বরত শিক্ষকদের সন্দেহ হয়। পরে ওই শিক্ষার্থী ও তার সহযোগীকে আটক করে প্রবেশপত্র যাচাই-বাছাই করা হলে, সেটি ভুয়া বলে নিশ্চিত হন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং টিআলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবুল কালাম আজাদ। পরে কসবা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানজিল কবিরের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ভুয়া পরীক্ষার্থী ও তার সহযোগীকে পৃথকভাবে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। পাশাপাশি জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অধ্যক্ষ মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রবেশপত্র যাচাইয়ের সময় কোড নম্বর ও পরীক্ষার বিষয় মিল না থাকায় আমাদের সন্দেহ হয়। পরে বিস্তারিত যাচাই করে প্রবেশপত্রটি ভুয়া বলে নিশ্চিত হই। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়।
কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ছামিউল ইসলাম বলেন, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এডমিট কার্ড জাল করা একটি ফৌজদারি অপরাধ। পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ ধরনের প্রতারণা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
