নীলফামারী প্রতিনিধি :: ছিল আনন্দ উৎসব। নতুন কার্যালয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। হয়ে গেল ১৪৪ ধারা জারি। নীলফামারীর জলঢাকা পৌর এলাকায় বাস-মিনিবাস ও কোচ শ্রমিক ইউনিয়নের নতুন কার্যালয় উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সামাল দিতে জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। যেকোনো ধরনের বড় সংঘাত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় পৌর এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।
শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপী স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই আদেশ জারি করা হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত জলঢাকা পৌরসভার সেন্ট্রাল বাসস্ট্যান্ড ও এর আশপাশের এলাকায় এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৪৪ ধারা চলাকালীন নির্ধারিত এলাকার মধ্যে পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির একসঙ্গে চলাচল, যেকোনো ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল-শোভাযাত্রা এবং লাঠিসোঁটা, ধারালো অস্ত্র বা দেশীয় অস্ত্র বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মূলত সম্ভাব্য সহিংসতা এড়ানো এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জলঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ‘বাস-মিনিবাস মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন’ (রেজি নং-২২০)-এর একটি প্রধান কার্যালয় রয়েছে। এরই মধ্যে ‘বাস-মিনিবাস ও কোচ শ্রমিক ইউনিয়ন’ (রেজি নং-৩৪৪৬) নামের নতুন আরেকটি সংগঠন পৌর এলাকার একটি পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন স্থানে তাদের নতুন কার্যালয় উদ্বোধনের ঘোষণা দেয়। এই নতুন অফিস চালু করাকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের দুটি বিবদমান পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি অবস্থানের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন দ্রুত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১৪৪ ধারা জারির সিদ্ধান্ত নেয়।
এদিকে ১৪৪ ধারা জারির পর থেকেই জলঢাকা বাসস্ট্যান্ড ও এর সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সার্বক্ষণিক টহল ও কড়া নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে আকস্মিক এই উত্তেজনার কারণে ওই রুট দিয়ে চলাচলকারী দূরপাল্লার সব ধরনের যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম জানান, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সব পক্ষকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
