ক্রীড়া ডেস্ক :: স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছিল আর্জেন্টিনা একজন কেপ ভার্দের ফুটবলার ডেরয় দুয়ার্তের ম্যাজিকে। কে এই ডেরয় দুয়ার্ত। বিশ্বকাপের মঞ্চে অনেক সময় একটি গোলই বদলে দেয় একজন ফুটবলারের পরিচয়। আর্জেন্টিনার মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের বিপক্ষে ডেরয় দুয়ার্তের সেই এক গোলই তাকে রাতারাতি কেপ ভার্দের সবচেয়ে আলোচিত ফুটবলার বানিয়ে দিয়েছে। লিওনেল মেসির করা গোলের জবাব দিয়ে নিজের দলকে ম্যাচে ফিরিয়ে এনে তিনি দেখিয়েছেন, বড় মঞ্চে সাহস আর আত্মবিশ্বাস থাকলে অসম্ভব বলেও কিছু থাকে না।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের ৫৯তম মিনিটে দুর্দান্ত এক আক্রমণ থেকে গোল করেন ডেরয় দুয়ার্তে। তার এই গোলেই ১-১ সমতায় ফেরে কেপ ভার্দে এবং ম্যাচে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এমন পারফরম্যান্সের পর তাকে নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
মজার বিষয় হলো, ডেরয় দুয়ার্তের জন্ম কেপ ভার্দেতে নয়। ২৬ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারের জন্ম ও বেড়ে ওঠা নেদারল্যান্ডসের রটারডাম শহরে। ইউরোপেই ফুটবলের হাতেখড়ি হলেও পারিবারিক শিকড়ের টানে তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলে কেপ ভার্দের জার্সি বেছে নেন।
ডেরয়ের গল্পটি আসলে বর্তমান কেপ ভার্দে দলেরই একটি চিত্র। জাতীয় দলের অনেক খেলোয়াড়ই ইউরোপে জন্ম বা বেড়ে ওঠা। কিন্তু নিজেদের পারিবারিক পরিচয় ও দেশের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তারা কেপ ভার্দের হয়ে খেলছেন। এই কারণেই দলটি এখন আফ্রিকার অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
ক্লাব ফুটবলেও ডেরয় ধীরে ধীরে নিজের পরিচিতি গড়েছেন। বর্তমানে তিনি বুলগেরিয়ার ক্লাব লুদোগোরেতসের হয়ে খেলেন। এর আগে নেদারল্যান্ডসের স্পার্টা রটারডাম ও ফরচুনা সিটার্ডের জার্সিতেও মাঠে নেমেছেন। ইউরোপের বড় ক্লাবে না খেললেও কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা এবং দলগত ফুটবলের মাধ্যমে নিজেকে একজন নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা এসেছে পরিবার থেকেই। তার বাবা মাইকা দুয়ার্তে ছিলেন কেপ ভার্দের একজন ফুটবলার। শুধু তাই নয়, ডেরয়ের ভাই লারোস দুয়ার্তেও জাতীয় দলের মিডফিল্ডার এবং চলমান বিশ্বকাপে দুই ভাই একসঙ্গেই দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। ছোটবেলায় তারা দুজনই স্পার্টা রটারডামের একাডেমিতে খেলেছেন।
