ভারতে ‘ককরোচদের’ বিজয় কী মোদির জন্য অশনি সংকেত

by Abid vs36

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ১২ বছরের শাসনকালে সবচেয়ে বড় গণবিক্ষোভের মুখে পড়ে পদত্যাগ করতে হয়েছে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি বর্তমান সরকারের জন্য বড় ধাক্কা, দীর্ঘদিন ধরে শক্তিশালী রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও বিরোধিতাহীন শাসনের ভাবমূর্তি ধরে রেখেছিল। মেডিকেল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বাধীন জেনজিদের এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে আবার পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হয় এবং এর জেরে একাধিক শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং পরীক্ষাব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রথম দিকে আন্দোলনকারীদের দাবির সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। গত শুক্রবার রাতে এক ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে তিনি তরুণদের উদ্দেশে কথা বলেন এবং তাদের গঠনমূলক পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ জানান। তবে আন্দোলনকারীরা একে ব্যঙ্গ করে আরো প্রতিবাদী প্রচারণা শুরু করে। পরদিন শনিবার দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ আরো তীব্র হয়ে ওঠে, যা বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপন
banner

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণদের ব্যাপক সক্রিয়তা সরকারের প্রচলিত প্রচারণা ব্যবস্থাকে নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয়। বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো ও অনলাইন প্রচারণার মাধ্যমে জনমত নিয়ন্ত্রণে দক্ষতা দেখালেও এবার লাখ লাখ তরুণের তৈরি মিম ও ভিডিওর সামনে তাদের সেই প্রভাব দুর্বল হয়ে পড়ে। মোদির তরুণদের উদ্দেশে দেওয়া বার্তাও অনলাইনে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের শিকার হয়। আন্দোলন চলাকালে মূলধারার কিছু টেলিভিশন চ্যানেলের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। শুরুতে এসব চ্যানেল বিক্ষোভের খবর এড়িয়ে গেলেও পরে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বিদেশি শক্তি বা পাকিস্তানি গোষ্ঠীর মদদের অভিযোগ তোলে, যা সামাজিক মাধ্যমে দারুণ সমালোচিত হয়।

ব্রাউন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক অশুতোষ বর্ষ্ণির মতে, সরকারের পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আর কোনো বিকল্প ছিল না বলেই ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই আন্দোলনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো মোদি সরকার রাজনৈতিক বয়ান বা জনমতের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মেন্দ্র প্রধান ছিলেন মোদির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত মন্ত্রীদের একজন। তার এই পদত্যাগ বিজেপির রাজনৈতিক ও দলীয় অভ্যন্তরেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

এর আগে বিজেপি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য নির্বাচনে সাফল্য পেয়ে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছিল এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ার ধাক্কাও জোট সরকার গঠনের মাধ্যমে সামলে নিয়েছিল। তবে নতুন এই তরুণ আন্দোলন বিরোধী রাজনীতিকেও নতুন উদ্দীপনা দিয়েছে। কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়ে সক্রিয় হয়েছে এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী শিক্ষার্থীদের সমর্থনে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন।

ভারতের তরুণদের ক্ষোভের মূল কারণ শুধু প্রশ্নপত্র ফাঁস নয়, এর পেছনে রয়েছে বেকারত্ব, কর্মসংস্থানের অভাব, স্থবির মজুরি এবং শিক্ষাব্যবস্থার নানা সংকট। বিশেষ করে উত্তর প্রদেশের আসন্ন নির্বাচন এবং ২০২৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে এই আন্দোলনের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আন্দোলনের নেতারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এটি কেবল শুরু, তাদের মূল লক্ষ্য হলো তরুণদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বাস্তব পরিবর্তন আনা।

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222