পটুয়াখালীর কলাপাড়ার বাসিন্দা মো. আবুল কালাম। নিজে সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত হলেও দুই সন্তানকে পড়াচ্ছেন মাদরাসায়। এ বিষয়ে তার ভাষ্য হলো, ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষার নিশ্চয়তা থাকায় সন্তানকে মাদরাসায় ভর্তি করিয়েছেন। আবুল কালাম বলেন, ‘আমাদের সময় মাদরাসায় শুধু ধর্মীয় শিক্ষা দেয়া হতো। কিন্তু এখন আলিয়া মাদরাসা ও স্কুলে একই বই পড়ানো হয়। সন্তানকে মাদরাসায় ভর্তি করালে আধুনিক ও ধর্মীয়—দুটো শিক্ষাই পাওয়া যাচ্ছে। দেশে এখন অনেক ভালো মানের মাদরাসা রয়েছে। মাদরাসা থেকে পড়েও ছেলে-মেয়েরা ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হচ্ছে। এ কারণে সব দিক বিবেচনা করে দুই সন্তানকে মাদরাসায় ভর্তি করিয়েছি।’

দেশে বর্তমানে মূলধারার মাদরাসা রয়েছে দুই ধরনের—আলিয়া ও কওমি। এর মধ্যে আলিয়া মাদরাসাগুলোর তথ্য সংরক্ষণ করে বাংলাদেশ শিক্ষাতত্ত্ব ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস)। ব্যানবেইসের তথ্য বলছে, ২০১৯ সালে মাদরাসায় শিক্ষার্থী ছিল ২৪ লাখ ৯১ হাজার। ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৭ লাখ ৫৮ হাজার। অর্থাৎ চার বছরের ব্যবধানে মাদরাসায় শিক্ষার্থী বেড়েছে ২ লাখ ৬৭ হাজার।
একই সময়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা ৯২ লাখ ৩ হাজার থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৮১ লাখ ৬৬ হাজার। অর্থাৎ চার বছরে ১০ লাখ ৩৭ হাজার শিক্ষার্থী কমেছে মাধ্যমিকে স্কুলে।
আলিয়া মাদরাসার পাশাপাশি শিক্ষার্থী বেড়েছে কওমি মাদরাসায়ও। দেশে কওমি মাদরাসার শিক্ষা কার্যক্রম বর্তমানে কয়েকটি বোর্ডের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে বৃহত্তম হিসেবে ধরা হয় বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশকে (বেফাক)। এ বোর্ডের অধীন মাদরাসাগুলোয় গত তিন বছরে শিক্ষার্থী সংখ্যা বেড়েছে প্রায় এক লাখ।

মাদরাসা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আলিয়া মাদরাসা ও স্কুলের পাঠ্যপুস্তক এখন এক প্রকার অভিন্ন। গত কয়েক বছর মাদরাসা শিক্ষার্থীদের একাংশ মেডিকেল, বুয়েটসহ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ভর্তি পরীক্ষায় সাফল্য পেয়েছেন। আবার কিছু কওমি মাদরাসার সঙ্গে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের চুক্তি থাকায় সেখান থেকেও অনেকে সরাসরি এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি দেশের কয়েকটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়েও কওমি মাদারাসার দাওরার সদন দিয়ে ভর্তি হওয়া যাচ্ছে। সরসারি অনার্সে ভর্তি হয়ে তারা দেশে-বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন। তাই ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির পাশাপাশি এসব বিষয়ও মাদরাসায় শিক্ষার্থী বাড়ানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন তারা।
ধারণা করা হয়, কওমি শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ অবারতি হলে এবং সরকারিভাবে সনদের মান কার্যকর হলে এসব মাদরাসায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরো বহু গুণে বৃদ্ধি পাবে।
এমএনএকে/
