চলতি বছরের হজ কার্যক্রমে অংশ নিতে নিবন্ধিত ১৩৫৮ জন হজযাত্রীর হজে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও মক্কা ও মদিনায় তাদের আবাসনের জন্য বাড়ি ভাড়া সম্পন্ন করতে পারেনি ২০টি হজ এজেন্সি। এতে করে শুধু ভুক্তভোগী হজযাত্রীরাই নয়, সরকারের ভাবমূর্তিও চরমভাবে ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রোববার ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, মক্কায় ১২৬৫ জন এবং মদিনায় ৯৩ জন হজযাত্রীর জন্য এখনো বাড়ি ভাড়ার কাজ সম্পন্ন হয়নি। এই সংকট নিরসনে এজেন্সিগুলোর প্রতি সোমবার (১৫ এপ্রিল) রাত ৮টার মধ্যে সব আবাসন সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শেষ করার চূড়ান্ত সময়সীমা নির্ধারণ করেছে মন্ত্রণালয়। ব্যর্থ হলে এসব এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
চলতি বছর হজ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে ৭০টি লিড এজেন্সির অধীনে আরও ৬৮৩টি সাব-এজেন্সি। সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের রোডম্যাপ অনুযায়ী, সকল সেবা চুক্তি সম্পন্নের সময়সীমা ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি। পরে তা ২৫ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এরপরও যারা নির্ধারিত সময়ে বাড়ি ও পরিবহন চুক্তি সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়, তাদের জন্য ৩ এপ্রিল পর্যন্ত চূড়ান্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ওই ২০টি এজেন্সি মক্কা ও মদিনায় বাড়ি ভাড়া সম্পন্ন করতে পারেনি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সৌদি কর্তৃপক্ষ রোববার থেকে ‘তাসরিয়া’ সিস্টেমে বাড়ি ভাড়া নেওয়ার সুযোগও বন্ধ করে দিয়েছে। বর্তমানে শুধু ‘তাসনিফ’-এর আওতায় থাকা হোটেল ভাড়া নেওয়ার সুযোগ রয়েছে, সেটিও যে কোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বারবার চিঠি, সভা, মেসেজ এবং সরাসরি তাগাদা দেওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলো সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়নি। এর ফলে ১৩৫৮ জন হজযাত্রী হজে যেতে না পারার ঝুঁকিতে পড়েছেন, যা সরকারের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, এজেন্সিগুলোর অবহেলার কারণে যদি কোনো হজযাত্রী হজে যেতে না পারেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি এমন গাফিলতি ভবিষ্যতে আর যাতে না ঘটে, সে জন্য পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
এনএ/
