গাজায় চলমান ইসরায়েলি হামলার কারণে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষ ও মানবিক সংকটের প্রতিবাদে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মিশরীয় দূতাবাসগুলোর সামনে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা রাফাহ সীমান্ত অবিলম্বে খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যাতে গাজার মানুষের কাছে খাদ্য, ওষুধসহ জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া যায়।
রোববার (২৭ জুলাই) ডেইলি ইসলাম সূত্রে জানা গেছে, লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হাজার হাজার মানুষ মিশরের দূতাবাসের সামনে জড়ো হয়ে মিছিল করেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান, যেন গাজায় যুদ্ধ বন্ধ করে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথ নিশ্চিত করা হয়। বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি ছিল—রাফাহ সীমান্ত খুলে দেওয়ার মাধ্যমে গাজাকে বিশ্ব মানবতার সঙ্গে যুক্ত রাখা।
ইউরোপের আরও কয়েকটি শহরেও একই রকম দৃশ্য দেখা গেছে। ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিঙ্কিতে মিশরীয় দূতাবাসের মূল ফটকে বিক্ষোভকারীরা লাল রঙের স্প্রে করেন—যা গাজায় রক্তপাতের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
নেদারল্যান্ডের দ্য হেগ, জার্মানির হামবুর্গ এবং ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনেও ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলনকারীরা মিছিল বের করেন। এসব শহরের মিশরীয় দূতাবাসগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনি পতাকা ও ব্যানার নিয়ে রাফাহ সীমান্ত খুলে দেওয়ার দাবিতে স্লোগান দেন।
কোপেনহেগেনে উত্তেজনা এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, মিশরের দূতাবাস সাময়িকভাবে তাদের দরজা বন্ধ করে দেয়।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, রাফাহ সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় গাজার জনগণের জন্য খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রীর প্রবেশ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে অঞ্চলটিতে এক চরম মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গাজার সঙ্গে মিশরের রাফাহ সীমান্তই একমাত্র প্রবেশদ্বার যা সরাসরি মিশরের মাধ্যমে বাইরের বিশ্ব থেকে মানবিক সহায়তা প্রবেশ করতে পারে। তবে ইসরায়েলি অবরোধ ও মিশরের নীতির কারণে সেটিও দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ রয়েছে।
সূত্র: ডেইলি ইসলাম।
অনুবাদ: আমিরুল ইসলাম লুকমান
