হাসান আল মাহমুদ >>
ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান এবার দলের ভেতরে-বাইরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তার বক্তব্যের জেরে বিএনপি তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে।
রোববার দলের দপ্তর থেকে জারি করা নোটিশে বলা হয়, ফজলুর রহমান গণঅভ্যুত্থান ও আত্মদানকারী শহীদদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন, যা সম্পূর্ণরূপে দলীয় আদর্শ ও গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থি। তার বক্তব্যে জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে বিএনপির সাড়ে চারশো’র বেশি নেতাকর্মীসহ প্রায় দেড় হাজার মানুষ শহীদ হন এবং আহত হন ত্রিশ হাজারেরও বেশি। অথচ ফজলুর রহমান ধারাবাহিকভাবে সেই বীরোচিত আত্মদানকে অমর্যাদা করে আসছেন।
তাকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে স্বাক্ষর করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
বিএনপি ভেতরে-বাইরে ফজলুর রহমানের মন্তব্য নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একাধিক নেতা ৩৬ নিউজকে বলেন, ফজলুর রহমানের বক্তব্যে পুরো দলের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে এবং এর দায়ভার তাকে একদিন বহন করতে হবে।
যুবদলের কেন্দ্রীয় এক নেতা বলেন, ‘দলের ইতিহাস নিয়ে এমন উল্টাপাল্টা কথা মেনে নেওয়া যায় না। এতে শহীদদের রক্তের প্রতি অসম্মান দেখানো হয়েছে।’
ছাত্রদলের এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ‘আমাদের তারেক রহমান সাহেব সবকিছু দেখছেন। কে কী করছে সব হিসাব রাখা হচ্ছে। নির্বাচনের মনোনয়ন বিলি করার সময় ফজলুর রহমানের মতো অনেকেই বাদ পড়ে যাবে। এর চেয়ে বড় শাস্তি আর কী হতে পারে?’
ফজলু কাণ্ডে সামাজিক মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা গেছে।
প্রবাসী লেখক পিনাকী ভট্টাচার্য বলেন— ‘ফজু পাগলারে অবশেষে বিএনপি শোকজ করলো। আমি অনেক আগেই বলেছিলাম থামান। এখন জামায়াত-শিবিরকে বিপ্লবের ক্রেডিট দেওয়ায় বিএনপির টনক নড়েছে।’
শাহাদাত হোসাইন নামে এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী লিখেছেন— ‘ফজলুর রহমান গণঅভ্যুত্থানকে কালো শক্তির বিজয় বলেছেন। এর মানে তিনি ছাত্রদল ও বিএনপিকেও কালো শক্তি বলেছেন। এমনকি তারেক রহমানকেও কালো শক্তির নেতা বলেছেন। এটি দলের জন্য লজ্জাজনক।’
প্রবাসে কারাবন্দী হাফেজ মুহাম্মদ ইসলামাবাদী মন্তব্য করেন— ‘ধন্যবাদ বিএনপি। গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিকে যারা আঘাত করে, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া উচিত নয়।’
আব্দুল্লাহ মাহমুদ লিখেছেন— ‘যদি তাকে দল থেকে বহিষ্কার না করা হয়, বিএনপি তার গ্রহণযোগ্যতা হারাবে।’
এদিকে শাহবাগে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর ব্যানারে ফজলুর রহমানের কুশপুত্তলিকা দাহ ও গণজুতা নিক্ষেপ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ফজলুর রহমান আন্দোলনের শহীদদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে অবমাননা করেছেন। তারা বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে বলেন— ‘ফজলু পাগলাকে থামান, না হলে আওয়ামী লীগের মতো বিএনপিও ভেসে যাবে।’
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ফজলুর রহমানের বিতর্কিত বক্তব্য বিএনপিকে সাংগঠনিক ও ভাবমূর্তির দিক থেকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছে। একদিকে দলের ভেতরে ক্ষোভ, অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মের প্রতিবাদ— সব মিলিয়ে ‘ফজলু কাণ্ড’ এখন বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হাআমা/
